সুপ্রিম কোর্টের বেনজির হস্তক্ষেপ! এসআইআর জট কাটাতে আজই হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির জরুরি বৈঠক

পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (Special Interactive Revision) নিয়ে রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে চলা নজিরবিহীন সংঘাত মেটাতে এবার আসরে নামল বিচারবিভাগ। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আজ শনিবার দুপুরেই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।
বৈঠকের হাই-প্রোফাইল উপস্থিতি
এসআইআর প্রক্রিয়ার জটিলতা কাটাতে প্রধান বিচারপতির এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকদের। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৈঠকে থাকছেন:
- রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO): মনোজ কুমার আগরওয়াল।
- মুখ্যসচিব: নন্দিনী চক্রবর্তী।
- রাজ্য পুলিশের ডিজি: পীযূষ পাণ্ডে।
- আইনি বিশেষজ্ঞ: রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল।
- নির্বাচন কমিশনের একজন সিনিয়র আধিকারিকও এই আলোচনায় যোগ দেবেন।
সুপ্রিম কোর্টের ‘বেনজির’ দাওয়াই
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেয়। রাজ্য এবং কমিশনের পারস্পরিক টানাপড়েনে বিরক্তি প্রকাশ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এখন থেকে তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার ভার থাকবে সম্পূর্ণভাবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জেলা স্তরে বর্তমান বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের নিয়োগ করবেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁরাই এসআইআর সংক্রান্ত সমস্ত বিরোধ বা অসঙ্গতির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করবেন। তাঁদের দেওয়া সিদ্ধান্তই সুপ্রিম কোর্টের আদেশ হিসেবে গণ্য হবে এবং রাজ্য তা মানতে বাধ্য থাকবে।
সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রয়োগ
পশ্চিমবঙ্গের এই পরিস্থিতিকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলে বর্ণনা করেছে সর্বোচ্চ আদালত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ (Article 142) প্রয়োগ করেছে, যা আদালতকে পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচারের স্বার্থে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসআইআর-এর কাজ যতটুকু শেষ হবে, তার ভিত্তিতেই কমিশন প্রাথমিক ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে। তবে সেটি চূড়ান্ত নয়; পরবর্তীকালে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
বিচারবিভাগের কাজের চাপ ও সমাধান
এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিচারকদের নিযুক্ত করার ফলে আদালতের নিয়মিত কাজ ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে হাই কোর্ট নির্দিষ্ট কিছু মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তরিত করার ক্ষমতা রাখবে। আজকের বৈঠকেই ঠিক হবে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা ঠিক কীভাবে এবং কোথা থেকে এই স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। রাজ্য ও কমিশনকে মিলেমিশে কাজ করার যে কড়া বার্তা দিল্লি থেকে এসেছে, আজকের বৈঠকের পর তার বাস্তবায়ন কতটা মসৃণ হয়, এখন সেটাই দেখার।