শিশুদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালালেন প্রাথমিক শিক্ষক, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে তুলকালাম

শিশুদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালালেন প্রাথমিক শিক্ষক, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে তুলকালাম

রঘুনাথগঞ্জ: খেলার অপরাধে শিশুদের লক্ষ্য করে চলল গুলি। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানার অন্তর্গত বাণীপুর এলাকায়। অভিযোগের তির খোদ এক প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক কিশোর গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত শিক্ষককে ইতিমতেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শিক্ষকের নাম সমীর কুমার মণ্ডল। তিনি ওমরপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। বাণীপুর এলাকায় তাঁর বাড়ির সামনে একটি ফাঁকা জায়গায় প্রতিদিন স্থানীয় শিশুরা খেলাধুলা করত। অভিযোগ, খেলতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই বল সমীরবাবুর বাড়ির ভেতরে ঢুকে যেত। এই নিয়ে শিশুদের ওপর আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন তিনি এবং সেখানে খেলতে বারবার নিষেধ করেছিলেন।

শনিবার বিকেলে শিশুরা যখন পুনরায় সেখানে খেলছিল, তখন মেজাজ হারান ওই শিক্ষক। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হঠাৎই বাড়ি থেকে বন্দুক বের করে শিশুদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করেন তিনি। অন্তত চার থেকে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ। এর মধ্যেই একটি গুলি এক কিশোরের হাতে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশের তৎপরতা ও উদ্ধার হওয়া অস্ত্র

ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষক সমীর কুমার মণ্ডলকে আটক করে। পরে তাঁকে নিয়মমাফিক গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বাড়ি তল্লাশি করে একটি বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রটি একটি এয়ারগান। তবে সেটি আসল বন্দুক নাকি এয়ারগান, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্তের সাফাই ও বর্তমান পরিস্থিতি

আহত কিশোরের পরিবারের দাবি, শিশুদের প্রাণে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। যদিও পুলিশের কাছে ধৃত শিক্ষকের দাবি, তিনি কাউকে আঘাত করতে চাননি, বরং কেবল ভয় দেখানোর জন্যই গুলি ছুড়েছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাণীপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একজন শিক্ষকের এমন মরণঘাতী আচরণে স্তম্ভিত এলাকাবাসী। পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *