আদালতের রায়ে শুল্ক নীতি ‘অবৈধ’ ঘোষণা, দমে না গিয়ে পাল্টা ১০ শতাংশ শুল্কের হুঙ্কার ট্রাম্পের

আদালতের রায়ে শুল্ক নীতি ‘অবৈধ’ ঘোষণা, দমে না গিয়ে পাল্টা ১০ শতাংশ শুল্কের হুঙ্কার ট্রাম্পের

ওয়াশিংটন: মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বড় ধাক্কা সত্ত্বেও নিজের অবস্থানে অনড় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বজুড়ে ঢালাওভাবে শুল্ক বা ‘গ্লোবাল ট্যারিফ’ আরোপের যে নীতি তিনি নিয়েছিলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত তাকে ‘অবৈধ’ এবং ‘প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে ঘোষণা করেছে। তবে আদালতের এই রায়কে ‘ভয়াবহ’ ও ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

আদালতের রায় ও ট্রাম্পের ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ১৯৭৭ সালের আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন প্রেসিডেন্টকে ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপের অধিকার দেয় না। সংবিধান অনুযায়ী এই ক্ষমতা একমাত্র কংগ্রেসের হাতে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, জাতীয় জরুরি অবস্থার দোহাই দিয়ে ট্রাম্প তার কর্তৃত্বের সীমা লঙ্ঘন করেছেন।

এই রায়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে বিচারপতিদের ‘মুর্খ’ ও ‘ভীতু’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “আদালতের কিছু সদস্যকে নিয়ে আমি লজ্জিত। দেশের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস তাদের নেই।” উল্লেখ্য, যে ছয়জন বিচারপতি এই শুল্কের বিপক্ষে রায় দিয়েছেন, তাদের মধ্যে ট্রাম্পের নিজের মনোনীত দুজন রক্ষণশীল বিচারপতিও রয়েছেন।

নতুন ‘সেকশন ১২২’ এবং ১০ শতাংশ শুল্ক

আদালত পুরনো শুল্ক নীতি বাতিল করলেও ট্রাম্প দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি ‘সেকশন ১২২’ নামক একটি বিশেষ আইন ব্যবহার করে নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের নথিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই আইন অনুযায়ী, কংগ্রেসের হস্তক্ষেপ ছাড়াই প্রেসিডেন্ট সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্য ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসাতে পারেন। আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে যাচ্ছে। এর ফলে ভারত, যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো দেশগুলো, যারা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছিল, তারাও এখন নতুন করে এই শুল্কের মুখে পড়বে।

বিপাকে মার্কিন অর্থনীতি ও আমদানিকারকরা

আদালতের এই রায়ের পর এক বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গত এক বছরে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার শুল্ক আদায় করেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এই বিশাল পরিমাণ অর্থ কি আমদানিকারকদের ফেরত দিতে হবে? কস্টকো এবং আলকোয়ার মতো শত শত বড় বড় কো ম্পা নি ইতিমধ্যে অর্থ ফেরতের দাবিতে মামলা শুরু করেছে। তবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, “শুল্ক ফেরতের বিষয়টি এত সহজ হবে না, এটি দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের বিষয়।”

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপে বিশ্বজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থান আমেরিকার বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

আদালত বনাম হোয়াইট হাউসের এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব বাণিজ্য মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *