রাশিয়ার রণতরী নিয়ে সমুদ্রে ইরান, পরমাণু বৈঠকের পরেই কি যুদ্ধের হুঙ্কার

নিউজ ডেস্ক,
জেনেভায় আমেরিকার সঙ্গে হাই-ভোল্টেজ পরমাণু বৈঠক শেষ হতে না হতেই রণমূর্তি ধারণ করল ইরান। কূটনীতির টেবিল থেকে সোজাসুজি যুদ্ধের ময়দানে পা রাখল তেহরান। ওমান উপসাগর থেকে উত্তর ভারত মহাসাগর— উত্তাল সমুদ্রের বুকে রাশিয়ার সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশাল নৌমহড়া শুরু করেছে তারা। পশ্চিম এশিয়ার আকাশ যখন যুদ্ধের মেঘে ঢাকা, তখন পুতিন বাহিনীর সঙ্গে ইরানের এই শক্তি প্রদর্শন ওয়াশিংটনকে এক চরম হুঁশিয়ারি বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
আলোচনার আড়ালে রণপ্রস্তুতি
সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির বৈঠকের রেশ এখনও কাটেনি। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা নিয়ে যখন টানটান উত্তেজনা, ঠিক তখনই জলপথে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গেল ইরানের ‘আলভান্দ’ শ্রেণির ডেস্ট্রয়ার, ক্ষেপণাস্ত্রবাহী রণতরী এবং অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার। এই মহড়ায় অংশ নিয়েছে বিশেষ প্রশিক্ষিত ‘স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ’ এবং দ্রুতগতির স্পিডবোট। তেহরানের দাবি, সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ, তবে এর নেপথ্যে লুকিয়ে থাকা রাজনৈতিক বার্তাটি অত্যন্ত স্পষ্ট।
আমেরিকার চাপে নতি স্বীকার নয়
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স ইরানকে মাত্র দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। সাফ জানানো হয়েছিল, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ না করলে ফল ভালো হবে না। কিন্তু সেই আল্টিমেটামকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে রাশিয়ার হাত ধরল ইরান। আইএইএ-র মহাপরিচালক রাফায়েল ম্যারিয়ানো গ্রোসি আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, ইরান যে মাত্রায় ইউরেনিয়াম মজুত করছে তা পরমাণু অস্ত্র তৈরির সমান। সাম্প্রতিক অতীতে ইজরায়েলের ‘অপারেশন রাইজিং লিওন’ এবং আমেরিকার ‘অপারেশন মিডনাইট হামার’ ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে বড়সড় আঘাত হানলেও, দমে যাওয়ার পাত্র নয় তেহরান।
উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া এবং ভবিষ্যতের সমীকরণ
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন রয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কলন’ এবং ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফর্ড’। হরমুজ প্রণালীর কাছে ইরানের লাগাতার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং রাশিয়ার সঙ্গে এই যৌথ মহড়া বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের চাপের মুখে তারা মাথা নোয়াবে না। একদিকে কূটনীতি আর অন্যদিকে সামরিক আস্ফালন— ইরানের এই দ্বিমুখী কৌশল এখন গোটা বিশ্বের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি চললেও, পরমাণু চুক্তি নিয়ে অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন।