স্বামীজিকে নিয়ে শংকরের সেই কালজয়ী লেখনী আর ফিরবে না

স্বামীজিকে নিয়ে শংকরের সেই কালজয়ী লেখনী আর ফিরবে না

বাংলা সাহিত্য জগতের এক নক্ষত্রপতন ঘটল। প্রথিতযশা সাহিত্যিক শংকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পাঠককুল থেকে শুরু করে সাহিত্যিক মহল। তাঁর এই চলে যাওয়াকে বাংলা সাহিত্যের এক অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী। তিনি মনে করেন, স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়ে শংকরের যে গভীর ও নিবিড় গবেষণাধর্মী কাজ, তা আগামী দিনে আর কেউ করতে পারবেন বলে মনে হয় না।

এক সময়ে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বা বিমল মিত্র যে বিপুল জনপ্রিয়তা উপভোগ করতেন, শঙ্কর ছিলেন সেই ঘরানারই শেষ দিকপাল। বিশেষ করে কলকাতা বইমেলায় তাঁর বইয়ের জন্য পাঠকদের যে দীর্ঘ লাইন এবং আকাশচুম্বী চাহিদা থাকত, তা ছিল এক বিরল দৃশ্য। সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের লড়াই থেকে শুরু করে আধ্যাত্মিকতার কঠিন তত্ত্বকে সহজ ভাষায় তুলে ধরায় তিনি ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

শংকরের রচনার মূল শক্তি ছিল তাঁর নিবিড় পড়াশোনা এবং স্বামীজিকে নিয়ে তাঁর অসামান্য গবেষণামূলক দৃষ্টিভঙ্গি। স্বামী বিবেকানন্দের জীবনের নানা অজানা দিক তিনি যেভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন, তা ছিল একাধারে গবেষণাধর্মী এবং অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী। তাঁর এই প্রয়াণে বাংলার সারস্বত সমাজে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হলো, যা পূরণ হওয়া প্রায় আসাম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *