প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা বেতন হলে আপনিও হতে পারেন আড়াই কোটি টাকার মালিক

একজন চাকরিজীবীর জীবনে অবসরের পর নিশ্চিন্তে দিন কাটানোর জন্য বড় অঙ্কের একটি তহবিল থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্য পূরণে এমপ্লয়েড প্রভিডেন্ট ফান্ড বা ইপিএফ একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। সঠিক পরিকল্পনা করলে আপনার বেতন ৫০ হাজার টাকা হলেও চাকরি জীবনের শেষে হাতে পেতে পারেন ২.৫ কোটি টাকারও বেশি।
ইপিএফ জমার ম্যাজিক
ইপিএফ মূলত দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের একটি শক্তিশালী স্তম্ভ। এখানে আপনার মূল বেতনের একটি অংশ যেমন জমা হয়, তেমনই সমপরিমাণ অর্থ দেন নিয়োগকর্তাও। সরকারি গ্যারান্টি এবং চক্রবৃদ্ধি হারের কারণে সময়ের সাথে সাথে এই ক্ষুদ্র সঞ্চয়ই বিশালাকার ধারণ করে।
হিসাবের সহজ অঙ্ক
ধরা যাক, আপনার মাসিক মূল বেতন ৫০,০০০ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী আপনার বেতন থেকে ১২ শতাংশ বা ৬,০০০ টাকা কাটা হবে। নিয়োগকর্তাও একই পরিমাণ টাকা দেবেন। তবে নিয়োগকর্তার সেই ৬,০০০ টাকার একটি অংশ যায় পেনশন স্কিমে এবং বাকি ৪,৭৫০ টাকা সরাসরি আপনার ইপিএফ অ্যাকাউন্টে জমা হয়। অর্থাৎ, প্রতি মাসে আপনার মোট ইপিএফ জমা হচ্ছে ১০,৭৫০ টাকা।
৩৫ বছরে আড়াই কোটি টাকা
বর্তমানে ইপিএফ-এ বার্ষিক সুদের হার ৮.২৫ শতাংশ। এই হারে যদি আপনি একটানা ৩৫ বছর বিনিয়োগ চালিয়ে যান, তবে চক্রবৃদ্ধি সুদের প্রভাবে আপনার জমানো অর্থের পরিমাণ অবিশ্বাস্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
- আপনার মোট বিনিয়োগ: ৪৫.১৫ লক্ষ টাকা
- অর্জিত সুদ: ২.০৯ কোটি টাকা
- মোট প্রাপ্তি: প্রায় ২.৫৪ কোটি টাকা
বেতন বৃদ্ধি যোগ করলে তহবিল হবে আরও বড়
উপরের হিসাবটি করা হয়েছে স্থির বেতনের ওপর ভিত্তি করে। বাস্তবে প্রতি বছর বেতন বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট হয়। ফলে আপনার মাসিক জমার পরিমাণও বাড়বে, যা ৩৫ বছর পর আপনার অবসরের তহবিলকে আড়াই কোটির গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও উঁচুতে নিয়ে যাবে। তাই আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য প্রথম দিন থেকেই ইপিএফ বিনিয়োগে গুরুত্ব দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।