শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরিতে এবার কি দোল খেলা বন্ধ? বনদপ্তরের কড়া পদক্ষেপে তুঙ্গে জল্পনা

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিনিকেতন: শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে বসন্ত উৎসবের সেই আগের জৌলুস এখন অতীত। ঐতিহ্য রক্ষায় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে দোল খেলা বন্ধ করার পর পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছিল সোনাঝুরির খোয়াইয়ের জঙ্গল। কিন্তু এবার সেখানেও রং খেলার ওপর জারি হতে চলেছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি জঙ্গলে পরিবেশ রক্ষায় এবার রীতিমতো ‘নো এন্ট্রি’ বোর্ড ঝোলাতে চলেছে বনদপ্তর।
পরিবেশ বাঁচাতে কড়া প্রশাসন
পরিবেশকর্মী সুভাষ দত্ত ইতিমধ্যেই বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈনকে চিঠি দিয়ে সোনাঝুরিতে দোল উৎসব বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রতি বছর দোলের দিন সোনাঝুরির জঙ্গলে ব্যাপক ভিড় হয়। চারচাকা গাড়ি ও বাইক ঢুকে গাছপালার ক্ষতি করে, আর যত্রতত্র প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে পরিবেশ দূষিত করা হয়। সুভাষবাবুর সাফ কথা, সোনাঝুরি হাট নিয়ে মামলা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বনের ভেতর কোনো অরণ্য-বহির্ভূত কাজ বরদাস্ত করা হবে না। প্রশাসন পদক্ষেপ না নিলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
বনদপ্তর ও জেলাশাসকের অবস্থান
বোলপুরের রেঞ্জ অফিসার জ্যোতিষ বর্মণ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, গত বছরের মতো এবারও জঙ্গলের ভেতর দোল খেলা বা কোনো উৎসব করা যাবে না। ওপরমহলের চূড়ান্ত নির্দেশ এলেই আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা জারি হবে। অন্যদিকে, জেলাশাসক ধবল জৈন জানিয়েছেন, সোনাঝুরির জঙ্গল বনদপ্তরের অধীনে এবং বনের কোনো ক্ষতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
বিকল্প ব্যবস্থা ও পর্যটন
বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ এবারও ৬ মার্চ ঘরোয়াভাবে বসন্ত উৎসব পালন করবে। তবে পর্যটকদের নিরাশ হওয়ার কারণ নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ। তিনি জানান, বোলপুর শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় অর্থনীতি ও পর্যটকদের স্বার্থে মানুষ সেখানে উৎসবে সামিল হতে পারবেন।
সোনাঝুরির খোয়াই হাট কমিটির সম্পাদক তন্ময় মিত্রও জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেরা কোনো উৎসবের আয়োজন করছেন না। পর্যটকরা যাতে জঙ্গলে ঢুকে ক্ষতি না করেন, তার জন্য প্রশাসনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন। ফলে এবারের দোল শান্তিনিকেতনে হচ্ছে ঠিকই, তবে সোনাঝুরির নির্জনতা আর প্রকৃতি বাঁচাতে সেখানে আবির খেলা থাকছে ব্রাত্য।