ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে চরম বিভ্রান্তি মার্কিন বাজারে, ভারতের পণ্যে ১৮ নাকি ১০ শতাংশ কর

ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে চরম বিভ্রান্তি মার্কিন বাজারে, ভারতের পণ্যে ১৮ নাকি ১০ শতাংশ কর

মার্কিন শুল্কনীতিতে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন আইনি জটিলতায় এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত শুল্ক হার নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ভারতীয় রপ্তানিকারকদের ঠিক কত শতাংশ কর গুনতে হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। ১০ শতাংশ, ১৮ শতাংশ নাকি ১৩.৫ শতাংশ—কোন অঙ্কে আটকে আছে দিল্লির ভাগ্য?

সুপ্রিম কোর্টের রায় ও আইনি মোড়

ঘটনার সূত্রপাত মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক রায়ে। আদালত সাফ জানিয়েছে, শান্তিকালীন সময়ে পাঁচ দশকের পুরনো ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমারজেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট’ (IEEPA) ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে শুল্ক চাপাতে পারেন না। এর ফলে ট্রাম্পের আগের নেওয়া ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি কার্যত ধসে পড়েছে।

ট্রাম্পের পাল্টা চাল ও ‘সেকশন ১২২’

আদালতের রায়ে ক্ষুব্ধ ডোনাল্ড ট্রাম্প দমে না গিয়ে নতুন অস্ত্র প্রয়োগ করেছেন। তিনি ‘সেকশন ১২২’ নামক একটি প্রায় অপ্রচলিত আইন ব্যবহার করে সমস্ত দেশের ওপর এককালীন ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করেছেন। এই আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানোর ক্ষমতা রাখেন। এই নতুন নির্দেশিকা আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

ভারতের জন্য কার্যকর হার কত?

বর্তমানে তিনটি ভিন্ন হারের অঙ্ক ঘোরাফেরা করছে:

  • ১৮ শতাংশ: ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী ভারত ও আমেরিকার মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তির ভিত্তিতে এই হারই বহাল থাকার কথা।
  • ১০ শতাংশ: হোয়াইট হাউসের সূত্র অনুযায়ী, আপাতত সব দেশের মতো ভারতের ক্ষেত্রেও এই সাধারণ হার কার্যকর হতে পারে।
  • ১৩.৫ শতাংশ: হিসাব বলছে, ভারতের পুরনো ‘মোস্ট ফেভার্ড নেশন’ মর্যাদা অনুযায়ী ৩.৫ শতাংশ শুল্কের সাথে নতুন ১০ শতাংশ যোগ হলে কার্যকর কর এই অঙ্কে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

রপ্তানিকারকদের চোখে স্বস্তি না কি উদ্বেগ?

আমেরিকা ভারতের পণ্যের বৃহত্তম বাজার। বিশেষ করে বস্ত্র ও রত্নশিল্পের মতো শ্রমনির্ভর ক্ষেত্রগুলো এই শুল্কের হারের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। আপাতত ১৮ শতাংশের বদলে ১০ বা ১৩.৫ শতাংশের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় রপ্তানিকারকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিলেও আইনি অনিশ্চয়তা দুশ্চিন্তা জিইয়ে রেখেছে।

পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে আগামী সপ্তাহে ভারত সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনও ১৮ শতাংশ শুল্ক পুনর্বহালের জন্য নতুন কোনো আইনি পথ খোঁজার চেষ্টা চালাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ২৪ ফেব্রুয়ারির পর মার্কিন বন্দরে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশমূল্য কত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাণিজ্য মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *