রাজধানী কাঁপাতে নাশকতার ছক লস্করের, লাল কেল্লা ও মন্দিরে আত্মঘাতী হামলার আশঙ্কায় জারি চরম সতর্কতা

দিল্লি কি ফের এক রক্তাক্ত অধ্যায়ের সাক্ষী হতে চলেছে? গোয়েন্দা তথ্যে ঘুম উড়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি) ভারতের হৃদপিণ্ড দিল্লিতে ভয়াবহ আইইডি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা করছে বলে চাঞ্চল্যকর খবর মিলেছে। বিশেষ করে ঐতিহাসিক লাল কেল্লা, জনবহুল চাঁদনী চক এবং ওই এলাকার একটি সুপ্রাচীন ও বিশিষ্ট মন্দির জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানী জুড়ে বর্তমানে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।
নিশানায় ধর্মীয় স্থান ও ঐতিহাসিক স্থাপত্য
গোয়েন্দা ইনপুট অনুযায়ী, জঙ্গিরা জনবহুল এলাকাকে বেছে নিয়ে বড়সড় প্রাণহানির ছক কষছে। চাঁদনী চকের একটি মন্দিরে হামলার সুনির্দিষ্ট হুমকি মেলায় ওই এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা লাল কেল্লা সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজ এবং সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হচ্ছে। সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে এবং কোনো পরিত্যক্ত ব্যাগ বা বস্তু দেখলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অতীত স্মৃতি ও সাম্প্রতিক বিস্ফোরণ
২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর লাল কেল্লার কাছে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ক্ষত আজও টাটকা। সেই সন্ধ্যায় তিন ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি গাড়ি আচমকাই আগুনের গোলায় পরিণত হয়েছিল, যাতে প্রাণ হারিয়েছিলেন বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষ। তদন্তে নেমে পুলিশ একাধিক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করলেও নাশকতার জাল যে আরও গভীরে বিস্তৃত, তা বর্তমান হুমকি থেকেই স্পষ্ট।
সীমান্তের ওপারে অস্থিরতা ও ভারতের ওপর ছায়া
গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে একটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় আত্মঘাতী বিস্ফোরণে বহু মানুষের মৃত্যু হয়। প্রতিবেশী দেশে এই অস্থিরতার পর থেকেই ভারতীয় গোয়েন্দারা আশঙ্কা করছিলেন যে, নজর ঘোরাতে জঙ্গিরা এবার ভারতে বড় কোনো হামলার ছক কষতে পারে। লস্কর-ই-তৈয়বার এই আইইডি বিস্ফোরণের পরিকল্পনা সেই আশঙ্কারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে দিল্লির প্রতিটি প্রবেশপথে নাকা চেকিং বাড়ানো হয়েছে এবং স্পর্শকাতর স্থানগুলিতে কমান্ডো মোতায়েন করা হয়েছে।