তারেক জমানায় বরফ গলল সম্পর্কের, ২১ ফেব্রুয়ারিতেই কলকাতায় ফিরল বাংলাদেশের মৈত্রী বাস

তারেক জমানায় বরফ গলল সম্পর্কের, ২১ ফেব্রুয়ারিতেই কলকাতায় ফিরল বাংলাদেশের মৈত্রী বাস

কলকাতা-ঢাকা বাস পরিষেবা নিয়ে বিরাট সুখবর

হাসিনা সরকারের পতনের পর প্রায় দেড় বছর অতিক্রান্ত। দীর্ঘ টালবাহানা আর সীমান্তের উত্তেজনার ইতি ঘটিয়ে ফের ভারতের রাস্তায় গড়াল বাংলাদেশের মৈত্রী বাসের চাকা। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পুণ্যলগ্নেই আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা রুটে বাস পরিষেবার পরীক্ষামূলক দৌড় শুরু হল।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কে এক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে নভেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাসে হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার খাতিরে বন্ধ করে দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক বাস পরিষেবা। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটছে। ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার যে প্রতিশ্রুতি নতুন সরকার দিয়েছিল, বাস পরিষেবা চালু হওয়া তারই বড় প্রমাণ বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

ত্রিপুরা সড়ক পরিবহন নিগমের (টিআরটিসি) ভাইস চেয়ারম্যান সমর রায় জানান, “বাংলাদেশের অস্থিরতার কারণে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এই পরিষেবা বন্ধ ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ায় এবং ভিসা প্রক্রিয়া সরলীকরণ করায় ফের বাস চলাচল শুরু হচ্ছে।” আজ ট্রায়াল রান সফল হওয়ার পর আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে সাধারণ যাত্রীদের নিয়ে নিয়মিত যাতায়াত শুরু করবে মৈত্রী বাস।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের নাড়ির টান ঐতিহাসিক। ১৯৭১ সালে নিজেদের জনসংখ্যার চেয়েও বেশি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল এই রাজ্য। সেই আবেগ আর বন্ধুত্বের পথেই ফের হাঁটল দুই প্রতিবেশী দেশ। সাম্প্রতিক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু নেতার বিতর্কিত মন্তব্যে সম্পর্কে যে চিড় ধরেছিল, মৈত্রী বাস পুনরায় চালুর মাধ্যমে সেই তিক্ততা ধুয়ে মুছে যাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *