বাংলা কথা বললেই অনুপ্রবেশকারী তকমা কেন? ভাষাদিবসের মঞ্চ থেকে দিল্লির বিরুদ্ধে হুঙ্কার মমতার

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পুণ্যলগ্নে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষায় রণংদেহী মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশপ্রিয় পার্কের অনুষ্ঠানে সঙ্গীতশিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি সাফ জানান, একুশ মানে কেবল একটি দিন নয়, একুশ হলো অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের এক তর্পণ। এদিন সরাসরি কেন্দ্রের নাম না নিয়ে তিনি অভিযোগ তোলেন যে, বর্তমানে বাংলা ভাষায় কথা বললেই কৌশলে ‘অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার চালানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, “বাংলা ভাষায় কথা বলা কি তবে অপরাধ?”
মুখ্যমন্ত্রী কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাঙালির সংস্কৃতি এবং ভাষাকে আসাম্মান করার চেষ্টা হলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভিন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মানুষ বাংলায় কাজ করেন এবং তাঁরা এখানে ভাই-বোনের মতো সসম্মানে থাকেন। বাংলার সরকার কখনও তাঁদের ওপর ‘বুলডোজার’ চালায় না, কিন্তু বাংলার মানুষের ওপর কেন বারংবার আক্রমণ নেমে আসছে, সেই প্রশ্নই আজ বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যাসাগর থেকে শুরু করে বাংলার মনীষীদের আদর্শ স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বাংলার অধিকার কেড়ে নেওয়ার ক্ষমতা কারও নেই।
দিল্লির মসনদকে লক্ষ্য করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, গায়ের জোরে বা দিল্লি থেকে এসে বাংলা দখল করা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “দিল্লির লাড্ডুর কাছে বাংলা কখনও মাথা নত করবে না।” স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ডাক দিয়ে তিনি বলেন, মানুষের হৃদয় জয় করতে হয় ভালোবাসা দিয়ে, জোর করে নয়। যাঁরা অত্যাচারের রাজনীতি করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট শোরগোল ফেলে দিয়েছে, যেখানে ভাষাদিবসের আবেগ মিশে গেছে বাঙালির স্বাধিকার রক্ষার লড়াইয়ের সাথে।