সিপিএমের বিদায়ী সাংসদ পদপ্রার্থী এবার অভিষেকের ডেরায়, কেন জোড়াফুলে প্রতীক-উর?

কলকাতা নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিপিএমের তুরুপের তাস ছিলেন তিনি। সেই তরুণ তুর্কি প্রতীক-উর রহমান এবার খোদ অভিষেকের হাত ধরেই যোগ দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসে। শনিবার আমতলায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের কার্যালয়ে গিয়ে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন প্রাক্তন এই এসএফআই নেতা।
সিপিএমের অস্বস্তি ও বহিষ্কার
প্রতীক-উর তৃণমূল কার্যালয়ে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নেয় আলিমুদ্দিন। দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তাঁকে তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করে সিপিএম। এমনকি এসএফআই দপ্তর থেকে তাঁর নামে বরাদ্দ তিন নম্বর লকারটি থেকে নিমেষের মধ্যে নাম মুছে ফেলা হয়।
কেন এই দলবদল?
তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রতীক-উর স্পষ্ট জানান যে বাম দলে থেকে তাঁর দমবন্ধ হয়ে আসছিল। তিনি বলেন, “সিপিএমে কাজের পরিবেশ নেই। রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে এবং মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে সামিল হয়েছি।” পালটা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রতীকের সাহসের প্রশংসা করে বলেন, “প্রতীক সিপিএমের মিথ্যে বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে আসার ক্ষমতা দেখিয়েছে। যারা বলছে ও কোনো ডিল করেছে, তাদের জেনে রাখা উচিত প্রতীক নিজে জানিয়েছে ও কোনো টিকিটের আশায় আসেনি।”
রাজনৈতিক সমীকরণ
অভিষেকের মতে, বামেরা এখন কেবল টিভি পর্দা আর সোশ্যাল মিডিয়াতেই সীমাবদ্ধ। মাঠে-ঘাটে মানুষের জন্য কাজ করার ক্ষমতা তারা হারিয়েছে। অন্যদিকে, প্রতীক-উরের মতো যুব নেতার যোগদানে ডায়মন্ড হারবার সংলগ্ন এলাকায় বাম সংগঠন বড়সড় ধাক্কা খেল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। লোকসভা ভোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকেই নিজের শিবিরে টেনে নিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ফের একবার প্রমাণ করলেন যে দক্ষিণবঙ্গে তাঁর সাংগঠনিক দাপট কতটা অপ্রতিরোধ্য।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ হয়েই বিরোধী শিবিরের কর্মীরা দলে দলে ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। এখন দেখার, প্রতীক-উর রহমানকে আগামী দিনে দলের কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যায়।