দিল্লিতে লস্কর হামলার দাপুটে ছক ও পাঞ্জাব কাশ্মীরে বিস্ফোরক উদ্ধারে তুঙ্গে উত্তেজনা

দিল্লিতে লস্কর হামলার দাপুটে ছক ও পাঞ্জাব কাশ্মীরে বিস্ফোরক উদ্ধারে তুঙ্গে উত্তেজনা

নিউজ ডেস্ক । সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়িয়ে খাস রাজধানীতে বড়সড় জঙ্গি হামলার সতর্কতা জারি করল কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লশকর-ই-তৈবা (LeT) দিল্লিতে ভয়াবহ আইইডি (IED) বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক কষছে বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই সতর্কবার্তার মাঝেই পাঞ্জাব এবং জম্মু-কাশ্মীরের পৃথক দুটি স্থান থেকে তাজা আইইডি উদ্ধার হওয়ায় দেশজুড়ে নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অমৃতসরে উদ্ধার ব্যাগবন্দি আইইডি

শুক্রবার ভোরে পাঞ্জাবের অমৃতসরের রাইয়া পুলিশ পোস্টের কাছে একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগে। খবর পেয়েই পুলিশ দ্রুত এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াডকে তলব করে। পরীক্ষা করে দেখা যায়, ব্যাগের ভেতরে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি আইইডি রাখা ছিল। অমৃতসরের এসএসপি সোহেল কাসিম মির জানিয়েছেন, বিস্ফোরকটি নিয়ম মেনে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি লস্করের যোগ রয়েছে কি না, তা নিয়ে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিশ।

রক্তক্ষয়ী প্রতিশোধের নেশায় লস্কর

গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত ৬ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের ইসলামাবাদের একটি মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। যদিও সেই হামলার দায় স্বীকার করেছিল আইএস (IS), কিন্তু লস্কর-ই-তৈবা এই ঘটনার বদলা নিতে ভারতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে দিল্লির জনবহুল বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মন্দির এবং পর্যটন কেন্দ্রগুলোকে টার্গেট করা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাশ্মীরে ঘনঘন বিস্ফোরক উদ্ধার ও লালকেল্লার ক্ষত

উপত্যকাতেও পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। গান্দেরবালের সাফাপোড়া এলাকায় শুক্রবার আরও একটি আইইডি উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের বম্ব স্কোয়াড। উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে উত্তর কাশ্মীরে এটি তৃতীয় আইইডি উদ্ধারের ঘটনা। এর আগে বারামুল্লা এবং ট্যাংমার্গ রোডেও বিস্ফোরক পাওয়া গিয়েছিল।

দিল্লিবাসী এখনও তিন মাস আগের সেই ভয়াবহ স্মৃতির আতঙ্ক কাটিয়ে উঠতে পারেনি। লালকেল্লার কাছে গাড়ি বিস্ফোরণে ১২ জনের মৃত্যু এবং ২০ জনের আহত হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন এই সতর্কবার্তা ঘুম কেড়েছে প্রশাসনের। আগের সেই হামলায় জইশ-ই-মোহাম্মদ ও আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের ‘হোয়াইট-কলার’ টেরর মডিউলের যোগসূত্র সম্প্রতি জাতিসংঘের রিপোর্টেও সিলমোহর পেয়েছে।

রাজধানীজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা

হামলার আশঙ্কায় বর্তমানে দিল্লি পুলিশের তরফে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। লালকেল্লা চত্বরসহ দিল্লির সমস্ত ভিড়ভাট্টা এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ড্রোন এবং সিসিটিভি ক্যামেরার সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে পাঞ্জাব ও কাশ্মীরের সীমান্তেও বিএসএফ কড়া পাহারা দিচ্ছে যাতে কোনোভাবেই নাশকতার ছক সফল না হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *