এক টুকরো হাড় বা খুলির অংশই এখন শেষ সম্বল, ২৬ দিন পর নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডের ১৮ শিকারের দেহাবশেষ ফিরল স্বজনদের হাতে

এক টুকরো হাড় বা খুলির অংশই এখন শেষ সম্বল, ২৬ দিন পর নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডের ১৮ শিকারের দেহাবশেষ ফিরল স্বজনদের হাতে

নাজিরাবাদের সেই অভিশপ্ত রাতের স্মৃতি এখনও টাটকা। ২৬ দিন আগে নরেন্দ্রপুরের আনন্দপুর এলাকায় বহুজাতিক মোমো কারখানা ও গুদামে লাগা ভয়াবহ আগুনে ঝলসে গিয়েছিলেন বহু শ্রমিক। দেহগুলি এতটাই পুড়ে গিয়েছিল যে চেনার কোনো উপায় ছিল না। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর ডিএনএ ম্যাপিংয়ের জটিল প্রক্রিয়া শেষে শনিবার ১৮ জন শ্রমিকের দেহাংশ তুলে দেওয়া হলো তাঁদের শোকাতুর পরিবারের হাতে।

কাঁটাপুকুর মর্গের সামনে আজ ছিল কান্নার রোল। কেউ পেলেন কাপড়ে জড়ানো এক টুকরো হাড়, কেউ বা মাথার খুলির অংশ। ওই সামান্য অবশেষটুকুই আঁকড়ে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠলেন পরিজনেরা। পুলিশ জানিয়েছে, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া এই ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই পূর্ব মেদিনীপুরের বাসিন্দা। বাকি দু’জনের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও পশ্চিম মেদিনীপুরে। তবে এখনও ৯ জনের ডিএনএ নমুনা মেলেনি, ফলে তাঁদের পরিবারের অপেক্ষা শেষ হয়নি।

শনিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানায় জড়ো হন স্বজনহারা পরিবারগুলো। সেখান থেকে তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁরা পৌঁছান কাঁটাপুকুর মর্গে। সেখানেই চলে দেহাংশ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া। তবে শোকের পাশাপাশি দানা বেঁধেছে নতুন উদ্বেগ। নিয়ম অনুযায়ী, দুর্ঘটনাটি খেয়াদহ ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটায় সেখান থেকেই মৃত্যু শংসাপত্র দেওয়ার কথা। কিন্তু দূরদূরান্তের গ্রাম থেকে বারবার নরেন্দ্রপুরে আসা শ্রমিক পরিবারগুলোর জন্য অত্যন্ত ব্যয়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। তাই নিজেদের ব্লক থেকেই যাতে ডেথ সার্টিফিকেট পাওয়া যায়, সেই আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, আইনি জটিলতায় সরকারি ক্ষতিপূরণ পেতে দেরি হলেও সংশ্লিষ্ট মোমো কো ম্পা নি ও ডেকোরেটর মালিকদের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই ঘোষণা করেছেন যে, ডিএনএ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি আর্থিক সাহায্য এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে।

গত ২৬ শে জানুয়ারি রাতের সেই বিধ্বংসী আগুন কেড়ে নিয়েছিল বহু প্রাণ। নিখোঁজ ২৭ জনের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য আত্মীয়দের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। ল্যাবে পরীক্ষার পর প্রথম দফায় ১৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেল। বাকি ৯ জনের উত্তরের অপেক্ষায় এখনও দিন গুনছে তাঁদের পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *