শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে জামায়াত প্রধান

ঢাকা শুক্রবার মধ্যরাতে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে গিয়ে চরম অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়লেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির আমির ডা. শফিকুর রহমান। রাষ্ট্রপতির ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর গভীর রাতে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান তিনি। তবে শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেরার পথেই একদল ক্ষুব্ধ যুবকের তীব্র বিক্ষোভ ও স্লোগানের মুখে পড়েন জামায়াত প্রধান।
ঘটনার বিস্তারিত
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ভিআইপিদের প্রস্থানের পর সাধারণ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের জন্য শহিদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এই সময়েই জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে সেখানে পৌঁছান।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ফেরার পথে মূল বেদীর কাছেই একদল যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দিতে শুরু করেন। জামায়াত আমিরের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি মুহূর্তেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাব দিতে শুরু করেন জামায়াতের কর্মীরাও। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি স্লোগানে শহিদ মিনার এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হন জামায়াত আমির।
দলীয় কর্মসূচি না থাকলেও ব্যক্তিগত উপস্থিতি
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক বছরের মতো এ বছরও জামায়াতে ইসলামির পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে কোনো আনুষ্ঠানিক দলীয় কর্মসূচির ঘোষণা ছিল না। তবে দলীয় ব্যানারে না এসেও শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ডা. শফিকুর রহমানের এই উপস্থিতি ঘিরে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একুশের চেতনার সঙ্গে জামায়াতের আদর্শিক বিরোধের বিষয়টিই সাধারণ মানুষের মধ্যে এমন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে শহিদ মিনারের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য নষ্ট করে এমন স্লোগান ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।