কাজের চাপে দিশেহারা প্রধান শিক্ষক! চলন্ত লঞ্চ থেকে মাঝগঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও-র

শ্রীরামপুর: শনিবার সকালে শ্রীরামপুর ফেরিঘাটে এক চরম নাটকীয় এবং উদ্বেগজনক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন যাত্রীরা। ঘড়িতে তখন বেলা সাড়ে এগারোটা। মাঝগঙ্গায় চলন্ত লঞ্চ থেকে আচমকাই নদীতে ঝাঁপ দিলেন এক ব্যক্তি। মুহূর্তের মধ্যে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
তৎক্ষণাৎ তৎপরতা দেখান ফেরিঘাটের কর্মীরা। মাঝগঙ্গা থেকে ডুবন্ত ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে পাড়ে নিয়ে আসা হয়। পরে জানা যায়, ওই ব্যক্তির নাম মহম্মদ কায়ামুদ্দিন। তিনি পেশায় কাঁচরাপাড়ার একটি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমানে বিএলও (BLO) হিসেবে কর্মরত।
কেন এই চরম সিদ্ধান্ত?
উদ্ধার হওয়ার পর মহম্মদ কায়ামুদ্দিন যে বিস্ফোরক দাবি করেছেন, তাতে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনিক মহলে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে বর্তমানে এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত কাজের চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছে যে তিনি মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই অসহ্য কাজের চাপ আর সামলাতে না পেরেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে চলন্ত লঞ্চ থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ দেন।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় শ্রীরামপুর থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া শিক্ষককে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পদমর্যাদার ব্যক্তি কেন এই ধরণের চরম পদক্ষেপ নিলেন, তার নেপথ্যে শুধুমাত্র কাজের চাপ নাকি অন্য কোনো মানসিক অবসাদ কাজ করছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এই ঘটনা সরকারি কর্মীদের ওপর কাজের অতিরিক্ত বোঝা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।