মৃত ব্যক্তির আধার কার্ড নিয়ে বড়সড় জালিয়াতির ছক! সাবধান না হলে পস্তাতে হবে আপনাকেও

ভারতে বর্তমান সময়ে আধার কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার চাবিকাঠি। ব্যাংক লেনদেন থেকে শুরু করে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা—সবক্ষেত্রেই আধার অপরিহার্য। তবে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। কোনো পরিবারের সদস্যের মৃত্যুর পর তাঁর আধার কার্ডটি নিয়ে অবহেলা করলে বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন উত্তরাধিকারীরা। মৃত ব্যক্তির আধার কার্ড ব্যবহার করে বড় ধরনের আর্থিক জালিয়াতি বা পরিচয় চুরির ঘটনা ঘটাতে পারে দুষ্কৃতীরা।
সাধারণত প্রিয়জনের মৃত্যুর পর শোকাতুর পরিবার আধার কার্ডের মতো নথিগুলোর কথা ভুলে যায়। অনেক ক্ষেত্রে কার্ডটি অযত্নে পড়ে থাকে বা ফেলে দেওয়া হয়। আর এই সুযোগটিই নেয় জালিয়াতরা। মৃত ব্যক্তির নাম ও আধার নম্বর ব্যবহার করে অবৈধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা বা সিম কার্ড তোলার মতো অপরাধমূলক কাজ অনায়াসেই করা সম্ভব। এই ঝুঁকি এড়াতে ভারতীয় অনন্য পরিচয় কর্তৃপক্ষ বা UIDAI এখন মৃত ব্যক্তির আধার নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ করে দিয়েছে।
আধার কার্ড নিষ্ক্রিয় বা ডিঅ্যাক্টিভেট করার সহজ পদ্ধতি
আপনার পরিবারের কোনো সদস্য প্রয়াত হলে তাঁর নথির অপব্যবহার রুখতে নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত গ্রহণ করুন।
- অফিসিয়াল পোর্টালে প্রবেশ প্রথমেই UIDAI-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট MyAadhaar পোর্টালে যান। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে এখন ঘরে বসেই এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব।
- নির্দিষ্ট বিকল্প নির্বাচন পোর্টালটি খোলার পর সেখানে ‘Report Death of a Family Member’ বা পরিবারের সদস্যের মৃত্যু সংক্রান্ত রিপোর্ট করার একটি অপশন দেখতে পাবেন। সেটিতে ক্লিক করুন।
- তথ্য প্রদান এখানে মৃত ব্যক্তির আধার নম্বর এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য নির্ভুলভাবে প্রদান করতে হবে। মনে রাখবেন, ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে।
- নথিপত্র আপলোড সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যু শংসাপত্রের স্ক্যান করা কপি আপলোড করা। এটি ছাড়া আধারের তথ্য যাচাই করা সম্ভব নয়।
- আবেদন জমা দেওয়া সব তথ্য এবং নথি আপলোড করার পর ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করুন। UIDAI-এর পক্ষ থেকে তথ্য যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই ওই আধার নম্বরটি স্থায়ীভাবে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হবে।
বর্তমান সময়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, প্যান কার্ড এবং মোবাইল নম্বর আধারের সাথে যুক্ত থাকে। তাই মৃত ব্যক্তির আধার কার্ডটি সক্রিয় রাখা মানেই জালিয়াতির পথ খোলা রাখা। প্রিয়জনকে হারানোর শোকের মধ্যেও এই নাগরিক দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত জরুরি, যাতে আপনার পরিবারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।