হারিয়ে যাওয়া সেই ছোট্ট গোপ আজ ২০ বছরের যুবক, ভুল ট্রেনের সফর যেভাবে ১৪ বছর পর ফিরিয়ে দিল চিবাসা

চৈবাসার সেই ছোট্ট গোপের গল্প যেন কোনো টানটান উত্তেজনার বলিউড ব্লকবাস্টার সিনেমাকেও হার মানায়। মাত্র ৬ বছর বয়সে বাবার হাত ছেড়ে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া সেই শিশুটি আজ ২০ বছরের টগবগে যুবক। দীর্ঘ ১৪ বছরের এক দীর্ঘ লড়াই আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নিজের শিকড়ের সন্ধান পেলেন তিনি। একটি ভুল ট্রেনের যাত্রা তাকে বাংলা থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে কেরলে পৌঁছে দিয়েছিল, যেখান থেকে ফিরে আসার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল তার পরিবার।
হাওড়া স্টেশনের সেই অভিশপ্ত মুহূর্ত
ঘটনাটি ২০১২ সালের। ঝাড়খণ্ডের চৈবাসার বাসিন্দা গোপ তার বাবার সঙ্গে হাওড়া আসছিলেন। স্টেশনের উপচে পড়া ভিড়ে হঠাতই বাবার হাত ফস্কে যায় ছোট্ট গোপের। আতঙ্কিত শিশুটি ভিড়ের মধ্যে দিশেহারা হয়ে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেনে উঠে পড়ে এই ভেবে যে, সেটি হয়তো তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। কিন্তু নিয়তির পরিহাসে সেই ট্রেনটি তাকে সরাসরি নিয়ে যায় কেরলের কান্নুরে।
কেরলের কান্নুর থেকে ফিরে আসার লড়াই
কান্নুরে পৌঁছানোর পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে একটি সরকারি শেল্টার হোমে পাঠিয়ে দেয়। বয়স অত্যন্ত কম হওয়ায় গোপ তখন নিজের বাড়ির ঠিকানা বা বাবার নাম স্পষ্টভাবে বলতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ ১৪টি বছর তাকে সেই ভিনরাজ্যের হোমে কাটাতে হয়। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক কিছুই বদলে গেছে। ছেলের অপেক্ষায় পথ চেয়ে থাকতে থাকতে তার বাবার মৃত্যু হয়েছে এবং পরিবারও একপ্রকার আশা ছেড়ে দিয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ার জাদুতে মিলল পরিবারের খোঁজ
গোপের শুধু আবছা মনে ছিল যে তার বাড়ি ‘চৈবাসা’ এলাকায়। সম্প্রতি কান্নুরের সেই শেল্টার হোমে একটি সামাজিক সংস্থা গোপের একটি ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। মুহূর্তের মধ্যে সেই ভিডিওটি ভাইরাল হয় এবং আশ্চর্যজনকভাবে চৈবাসায় তার আত্মীয়দের নজরে আসে। ভিডিও দেখে পরিবারের সদস্যরা গোপকে শনাক্ত করেন এবং প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
ঘরে ফেরার অপেক্ষা
আজ ২০ বছরের যুবক গোপ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন। বাবার অনুপস্থিতি তাকে ব্যথিত করলেও, দীর্ঘ এক যুগ পর নিজের পরিবার এবং মাটির কাছে ফিরে আসার আনন্দ তার চোখেমুখে স্পষ্ট। এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে, সঠিক উদ্দেশ্য নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করলে তা বিছিন্ন হয়ে যাওয়া পরিবারকেও মিলিয়ে দিতে পারে।