এক কাপ চায়ের আবদার মেটাতে না পারায় দাদাকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুন করল ছোট ভাই

ঝাঁসি
উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে ঘটে গেল এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ড। সামান্য এক কাপ চা বানানোকে কেন্দ্র করে বিবাদের জেরে নিজের দাদাকে কুড়ুল দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটলেও সম্প্রতি পুলিশের তদন্তে এবং অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিতে গোটা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রমাণ লোপাটের জন্য দাদার নিথর দেহটি বাড়ির ভেতরেই একটি ৬ ফুট গভীর কুয়োর মধ্যে পুঁতে ফেলেছিল ঘাতক ভাই।
ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় দুই ভাইয়ের মা বাপের বাড়িতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে দুই ভাই একাই ছিলেন। সকালবেলা ঘুমন্ত দাদাকে ডেকে এক কাপ চা বানিয়ে দিতে বলে ছোট ভাই। কিন্তু কাঁচা ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায় দাদা চা বানাতে অস্বীকার করেন। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দুই ভাইয়ের মধ্যে বচসা শুরু হয়। বিবাদ এমন চরম পর্যায়ে পৌঁছায় যে রাগের মাথায় পাশে থাকা একটি কুড়ুল নিয়ে দাদার মাথায় সজোরে আঘাত করে ছোট ভাই।
নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও প্রমাণ লোপাট
কুড়ুলের আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বড় ভাইয়ের। দাদাকে মৃত অবস্থায় দেখে ভয় পেয়ে যায় অভিযুক্ত। অপরাধ ঢাকতে সে তড়িঘড়ি বাড়ির ভেতরে থাকা একটি গভীর কুয়োর মধ্যে দেহটি ফেলে দেয় এবং মাটি চাপা দিয়ে দেয় যাতে কেউ টের না পায়। মা বাড়ি ফেরার পর বড় ছেলেকে দেখতে না পেয়ে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন।
পুলিশি তদন্ত ও গ্রেফতারি
পুলিশ তদন্তে নেমে ছোট ভাইয়ের কথাবার্তায় অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এরপর তাকে দফায় দফায় জেরা শুরু করলে ভেঙে পড়ে সে। নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানায় যে সামান্য চায়ের জন্য সে দাদাকে খুন করেছে। অভিযুক্তের দেখানো জায়গা থেকে পুলিশ মাটি খুঁড়ে পচাগলা দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ ইতিধ্যেই অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেফতার করেছে এবং খুনে ব্যবহৃত অস্ত্রটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।