গোপনে বিয়ে করা কি এবার অতীত? বিয়ের রেজিস্ট্রেশনে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাবা-মায়ের অনুমতি

গোপনে বিয়ে করা কি এবার অতীত? বিয়ের রেজিস্ট্রেশনে বাধ্যতামূলক হচ্ছে বাবা-মায়ের অনুমতি

গুজরাটে বিয়ের আইনি প্রক্রিয়ায় আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে রাজ্য সরকার। এখন থেকে আর পরিবারের অজান্তে বা লুকিয়ে বিয়ে করে আইনি শংসাপত্র পাওয়া সহজ হবে না। সামাজিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবির মুখে গুজরাট সরকার এক নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে, যেখানে বিয়ের রেজিস্ট্রেশনে পরিবারের ভূমিকাকে আইনি বৈধতা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। গুজরাটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিয়ের নিবন্ধন প্রক্রিয়া এখন থেকে আরও কঠোর এবং স্বচ্ছ হতে চলেছে।

প্রস্তাবিত নতুন নিয়মাবলি ও পদ্ধতি

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিয়ের রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করার সময় দম্পতিকে একটি হলফনামা জমা দিতে হবে। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ থাকতে হবে যে, এই বিয়ে সম্পর্কে তাঁদের বাবা-মায়ের সম্মতি বা পূর্ণ জানকারি রয়েছে কি না। আবেদন জমা পড়ার ১০ দিনের মধ্যে সরকারি আধিকারিকরা সরাসরি পাত্র ও পাত্রীর বাড়িতে ফোন বা মেসেজ করে বিষয়টি যাচাই করবেন।

প্রক্রিয়াটিকে আরও নিশ্ছিদ্র করতে নিম্নলিখিত নথিপত্র বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে:

  • পাত্র-পাত্রীর আধার কার্ড।
  • বিয়ের আনুষ্ঠানিক নিমন্ত্রণপত্র বা ‘কঙ্কোত্রী’।
  • বিয়ের অনুষ্ঠানের ছবি এবং সাক্ষীদের বিস্তারিত তথ্য সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে হবে।

ডিজিটাল নজরদারি ও অপেক্ষার সময়

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি জানিয়েছেন, “আমরা এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি যেখানে আবেদন করার সাথে সাথেই বাবা-মায়ের হোয়াটসঅ্যাপে নোটিফিকেশন চলে যাবে। এতে অভিভাবকদের আবেগের মর্যাদা রক্ষা হবে এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে।” নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনের পর ম্যারেজ সার্টিফিকেট হাতে পেতে অন্তত ৩০ দিন সময় লাগবে। এই সময়ের মধ্যে যাবতীয় তথ্য যাচাই করা হবে।

বিতর্ক ও জনমত

যদিও সরকার এই পদক্ষেপকে সামাজিক সুরক্ষাকবচ হিসেবে দেখছে, তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের একাংশ একে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার পরিপন্থী বলে মনে করছেন। তাঁদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক দুজনের বিয়ের সিদ্ধান্তে তৃতীয় পক্ষের বা পরিবারের হস্তক্ষেপ আইনি জটিলতা তৈরি করতে পারে। তবে সরকার এখনই এটি চূড়ান্ত করেনি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মতামত চাওয়া হয়েছে এবং জনমতের ভিত্তিতেই পরবর্তী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *