সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ! বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনে মোতায়েন হচ্ছেন জেলা জজরা

সুপ্রিম কোর্টের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ! বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনে মোতায়েন হচ্ছেন জেলা জজরা

কলকাতা ও নয়া দিল্লি: পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতায় এবার কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে তৈরি হওয়া চরম ‘অবিশ্বাস’ কাটাতে এক ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। এখন থেকে বাংলার প্রতিটি জেলায় ভোটার তালিকা তৈরির কাজ আর কেবল প্রশাসনিক আধিকারিকদের হাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সরাসরি বিচারবিভাগীয় নজরদারিতে সম্পন্ন হবে এই প্রক্রিয়া।

জেলা জজদের হাতে তদারকির দায়িত্ব

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি জেলায় একজন করে কর্মরত বা প্রাক্তন অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক (ADJ) পদমর্যাদার আধিকারিক নিয়োগ করা হবে। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি এই আধিকারিকদের তালিকা চূড়ান্ত করবেন। ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়া নিয়ে যে কোনও বিতর্কিত বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে এই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতেই।

রাজ্য ও কমিশনের মধ্যে ‘ট্রাস্ট ডেফিসিট’

মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত কঠোর মন্তব্য করেছে। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, রাজ্য সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে ‘আস্থার অভাব’ বা ‘Trust Deficit’ স্পষ্ট। একদিকে যখন কমিশন আধিকারিক ও কর্মীর অভাবের কথা বলছে, অন্যদিকে তখন বিরোধীরা ভোটার তালিকা থেকে পাইকারি হারে নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে। এই সংঘাতের আবহে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার যাতে খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করতেই বিচারবিভাগীয় হস্তক্ষেপের প্রয়োজন মনে করেছে আদালত।

২৮ ফেব্রুয়ারির ডেডলাইন ও পরবর্তী পদক্ষেপ

আদালত জেলাশাসক (DM) এবং পুলিশ সুপারদের (SP) নির্দেশ দিয়েছে যাতে তাঁরা এই বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের সব ধরনের প্রশাসনিক ও সুরক্ষা সংক্রান্ত সহায়তা প্রদান করেন। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি বিশেষে নির্বাচন কমিশন চাইলে পরবর্তীতে একটি ‘সাপ্লিমেন্টারি’ বা অতিরিক্ত তালিকাও প্রকাশ করতে পারবে বলে আদালত জানিয়েছে।

এই রায়ের ফলে বাংলার নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রশাসনিক আধিকারিকদের পাশাপাশি বিচারকদের সরাসরি নজরদারি ভোটার তালিকার বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা বাড়াতে পারে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *