জন্ডিস ভেবে হাসপাতালে নিতেই চক্ষু চড়কগাছ চিকিৎসকদের

দুর্গাপুর: জন্ডিস হয়েছে ভেবে ১৫ বছরের নাবালিকা মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু চিকিৎসকের পরীক্ষার রিপোর্টে যা উঠে এল, তাতে আকাশ ভেঙে পড়ল পরিবারের মাথায়। জানা গেল, ওই কিশোরী আসলে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আর এই খবর জানাজানি হতেই শুক্রবার কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দুর্গাপুরের রাঁচি কলোনি এলাকা। অভিযুক্ত যুবককে ধরে বাঁশ-লাঠি দিয়ে গণপিটুনি দিল উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে।
আসল ঘটনাটি কী?
পরিবার সূত্রে খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ বোধ করছিল ওই নাবালিকা। গায়ের রঙ ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ায় বাবা ভেবেছিলেন মেয়ের হয়তো জন্ডিস বা লিভারের কোনো সমস্যা হয়েছে। কিন্তু শুক্রবার সকালে পেটে অসহ্য যন্ত্রণা শুরু হলে তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, কিশোরীটি ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মেয়ের এই অবস্থার কথা শুনে হতবাক হয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। পরে কিশোরীকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে জানায়, তাদেরই এক নিকটাত্মীয় তার ওপর এই পৈশাচিক অত্যাচার চালিয়েছে।
উত্তেজিত জনতার রোষ ও গণপিটুনি
নাবালিকার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর রাষ্ট্র হতেই রাঁচি কলোনিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে অভিযুক্ত যুবককে এলাকায় দেখতে পেয়েই ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। উত্তেজিত জনতা তাকে ধরে বাঁশ ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। খবর পেয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উন্মত্ত জনতার হাত থেকে কোনোক্রমে রক্তাক্ত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের পদক্ষেপ ও স্থানীয়দের অভিযোগ
ডিসিপি অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। নাবালিকার শারীরিক পরীক্ষা এবং বয়ান রেকর্ড করার প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, ওই যুবক এর আগেও এলাকার নারী ও শিশুদের সাথে অভব্য আচরণ করেছে। বর্তমানে এলাকায় চাপা উত্তেজনা থাকায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী।