আসানসোলে মা ও ছেলের রহস্যমৃত্যু! হাড়হিম করা কাণ্ডে চাঞ্চল্য

কুলটি কলেজ রোড সংলগ্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা একটি বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে মা ও ছেলের ঝলসানো মৃতদেহ। মৃতদের নাম সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় (৬৮) এবং তাঁর ছেলে রাজা মুখোপাধ্যায় (৪৯)। তবে এই মৃত্যু কেবল নিছক দুর্ঘটনা নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে কোনো চরম অপরাধ, তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও প্রতিবেশীদের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দাদের বয়ান অনুযায়ী, গভীর রাতে হঠাৎই ওই বাড়ি থেকে বাজি ফাটার মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে জানলার ফাঁক দিয়ে আগুনের লেলিহান শিখা বেরিয়ে আসতে দেখেন প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় দমকল ও পুলিশকে। দমকল বাহিনী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ঘর থেকে দুটি নিথর দেহ উদ্ধার করে। প্রতিবেশীদের একাংশের দাবি, তাঁরা আগুনের আগে গুলির শব্দ শুনেছিলেন।
পারিবারিক বিবাদ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য
মৃত রাজার বাবা দয়াময় মুখোপাধ্যায় ইসিএল-এর প্রাক্তন কর্মী। তিনি পুলিশকে জানিয়েছেন যে, বুধবার তাঁর ছেলে তাঁর ওপর শারীরিক নিগ্রহ চালিয়েছিল। ছেলের আচরণে আতঙ্কিত হয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে পুরুলিয়ায় মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাজা পেশায় একটি বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থার কর্মী ছিলেন এবং তাঁর কাছে নিজস্ব লাইসেন্সপ্রাপ্ত বন্দুক ছিল। বাবার এই বয়ান এবং রাজার কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার বিষয়টি ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও ফরেনসিক পদক্ষেপ
আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি জাভেদ হোসেন জানিয়েছেন, মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, পারিবারিক কলহের জেরে রাজা প্রথমে তাঁর মাকে গুলি করে হত্যা করেন এবং পরে নিজে আত্মঘাতী হয়ে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। তবে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল সিল করে দিয়েছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের তলব করা হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্ট হাতে এলেই স্পষ্ট হবে যে ঘরে লাগা আগুনের উৎস কী ছিল এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ঠিক কী।