যুব সাথী প্রকল্পে এবার রাতের বেলাতেই সারতে হবে আবেদন! মমতা সরকারের নতুন নির্দেশিকায় জানুন খুঁটিনাটি

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বপ্নের প্রকল্প ‘যুব সাথী’ নিয়ে বড়সড় আপডেট সামনে এল। ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকেই যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে বেকার ভাতা ঢুকতে শুরু করবে। তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকার এক অভাবনীয় পরিবর্তন এনেছে। এখন থেকে আর দিনের বেলা যখন-তখন এই প্রকল্পের ফর্ম পূরণ করা যাবে না।
আবেদনের নতুন সময়সীমা ও পোর্টাল
নয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, ‘যুব সাথী’ প্রকল্পের অফিসিয়াল পোর্টালে (https://apas.wb.gov.in) অনলাইনে আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে কেবল সন্ধ্যা ৭টা থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত অনলাইনে ফর্ম জমা দেওয়া যাবে। দিনের বেলা (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত) ‘স্বনির্ভর বাংলা’ শিবিরগুলিতে অফলাইন কাজের প্রচণ্ড চাপ থাকার কারণেই অনলাইন পোর্টালের জন্য এই বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আবেদনের শেষ তারিখ আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি।
কারা পাবেন এই সুবিধা? (যোগ্যতার মানদণ্ড)
এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে:
- শিক্ষাগত যোগ্যতা: আবেদনকারীকে ন্যূনতম মাধ্যমিক (দশম শ্রেণি) পাশ হতে হবে।
- বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হওয়া বাধ্যতামূলক।
- আর্থিক সীমাবদ্ধতা: যদি কোনো আবেদনকারী ইতিমধ্যেই ইএসআই (ESI) বা পিএফ (PF)-এর সুবিধা ভোগ করেন, তবে তিনি এই ভাতার জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
- ব্যতিক্রম: যে সমস্ত পড়ুয়ারা সরকারি স্কলারশিপ পাচ্ছেন, তারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন; তবে শর্ত থাকে যে তারা অন্য কোনো সরকারি ভাতা পাচ্ছেন না।
প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা
রাজ্য সরকারের এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে একজন উপভোক্তা মাসে ১৫০০ টাকা করে বছরে মোট ১৮,০০০ টাকা পাবেন। সর্বোচ্চ ৫ বছর অথবা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত এই সুবিধা বজায় থাকবে। অর্থাৎ, ৫ বছরে একজন যুবক বা যুবতী মোট ৯০,০০০ টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা পেতে পারেন।
সার্ভারের সমস্যা এড়াতে এবং আবেদনের ভিড় সামাল দিতেই মূলত রাতের সময়টিকে বেছে নিয়েছে প্রশাসন। তাই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই অনলাইনে ফর্ম পূরণ করার জন্য আবেদনকারীদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।