পেটের সাধারণ ব্যথা বা ক্লান্তি কি আসলে মারণ রোগের লক্ষণ? অজান্তেই আপনার শরীরে দানা বাঁধছে না তো কোলন ক্যান্সার

সাধারণ পেটের ব্যথা কিংবা একটুতেই হাঁপিয়ে ওঠা—আমরা অনেকেই এই লক্ষণগুলোকে দৈনন্দিন ধকল ভেবে এড়িয়ে যাই। কিন্তু ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, এই অবহেলাই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির সাম্প্রতিক গবেষণায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। যেখানে বিশ্বজুড়ে ফুসফুস বা স্তন ক্যান্সারের হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসছে, সেখানে ‘কোলন ক্যান্সার’ বা মলাশয়ের ক্যান্সারের দাপট বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। সবথেকে ভয়ের বিষয় হলো, আগে এই রোগটি বয়স্কদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে ৫০ বছরের কম বয়সীরাও দ্রুত এই মারণ রোগের শিকার হচ্ছেন।
যে ৪টি উপসর্গকে একেবারেই হালকাভাবে নেবেন না
১. অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া: কোনো ডায়েট বা শরীরচর্চা ছাড়াই যদি হঠাৎ করে আপনার ওজন দ্রুত কমতে শুরু করে, তবে বুঝবেন শরীরের ভেতরে কোনো বড় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এটি ক্যান্সারের অন্যতম প্রাথমিক সংকেত।
২. ক্রমাগত ক্লান্তি ও অবসাদ: পর্যাপ্ত ঘুমের পরেও কি সারাদিন ঝিমুনি ভাব কাটে না? সামান্য পরিশ্রমেই কি প্রচণ্ড ক্লান্ত লাগে? বিশ্রাম নেওয়ার পরেও যদি শরীরে শক্তি ফিরে না আসে, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
৩. পেটে ঘনঘন ব্যথা বা মোচড়: পেটে মাঝে মাঝেই ব্যথা হওয়া এবং কিছুক্ষণ পর তা নিজে থেকেই ঠিক হয়ে যাওয়াকে আমরা গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বলে ভুল করি। কিন্তু বারবার পেট মোচড়ানো কোলন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
৪. মলের সাথে রক্তপাত: অনেকে মলদ্বারের রক্তপাতকে পাইলস বা অর্শ ভেবে ভুল করেন এবং ঘরোয়া চিকিৎসায় সময় নষ্ট করেন। কিন্তু মলের রঙ পরিবর্তন হওয়া বা রক্ত আসা কোলন ক্যান্সারের একটি অত্যন্ত গম্ভীর সংকেত। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়ার ধরনে হঠাৎ বদল আসলেও সতর্ক হতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের জরুরি পরামর্শ
চিকিৎসকদের মতে, ব্যস্ত জীবনযাত্রায় আমরা শরীরের ছোটখাটো সংকেতগুলো অবহেলা করি। বিশেষ করে অল্পবয়সীদের মধ্যে প্রক্রিয়াজাত খাবার বা জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতা এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। কোলন ক্যান্সার বা যেকোনো ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করা গেলে চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তাই উপরের লক্ষণগুলো টানা কয়েকদিন স্থায়ী হলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সঠিক সময়ে সচেতনতাই পারে আপনার জীবন বাঁচাতে।