সুপ্রিম কোর্টের কড়া দাওয়াইয়ের পর বেনজির অ্যাকশন কলকাতা হাইকোর্টের

সুপ্রিম কোর্টের কড়া দাওয়াইয়ের পর বেনজির অ্যাকশন কলকাতা হাইকোর্টের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের বিচারবিভাগীয় স্তরে এক নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল কলকাতা হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর আইনি জটিলতা কাটাতে এবং বকেয়া মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কোমর বেঁধে নেমেছে আদালত। শনিবার এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকের পর সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত রাজ্যের কোনও জেলা বা দায়রা বিচারক এমনকি বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারকরাও কোনও ছুটি পাবেন না।

রাজভবন ও হাইকোর্টের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত

শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত পশ্চিমবঙ্গ এসআইআর (SIR) মামলার শুনানিতে তথ্যগত অসঙ্গতি খতিয়ে দেখার জন্য কলকাতা হাইকোর্টের নিযুক্ত অফিসারদের ওপর গুরুভার অর্পণ করেছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই শনিবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন রাজ্যের মুখ্য সচিব, মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক, অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এবং কমিশনের প্রতিনিধিরা। কীভাবে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তা নিয়েই চলে দীর্ঘ আলোচনা।

কেন এই জরুরি অবস্থা ও কঠোর নির্দেশিকা

হাইকোর্ট সূত্রের খবর, সুপ্রিম কোর্টের ২০ ফেব্রুয়ারির নির্দেশের রেশ ধরেই এই কড়াকড়ি। বিশেষ করে সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে চলা ফৌজদারি মামলা, পকসো (POCSO) আদালত এবং বাণিজ্যিক আদালতের বিচারপ্রক্রিয়া যাতে এক মুহূর্তের জন্যও থমকে না যায়, তা নিশ্চিত করাই প্রধান বিচারপতির মূল লক্ষ্য।

নির্দেশিকার প্রধান দিকগুলো একনজরে

  • ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত কোনও বিচার বিভাগীয় আধিকারিক কর্মস্থল বা স্টেশন লিভ নিতে পারবেন না।
  • যাঁরা বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন, তাঁদের অবিলম্বে কাজে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • একমাত্র অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ ছাড়া অন্য কোনও অজুহাতে ছুটি মঞ্জুর করা হবে না।

অবহেলা করলে বিভাগীয় ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার (জুডিশিয়াল সার্ভিস)-এর পক্ষ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে অত্যন্ত কড়া ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে। জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ পালনে কোনও ধরনের গাফিলতি বা শৈথিল্য দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনের আগে রাজ্যের হাই-প্রোফাইল মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতেই বিচারব্যবস্থায় এই জরুরি তৎপরতা শুরু হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *