খামোশ! অনুমতি ছাড়া শত্রুঘ্ন সিনহার নাম বা গলা ব্যবহার করলেই কড়া অ্যাকশন নেবে আদালত

মুম্বই: রুপোলি পর্দার সেই দাপুটে কণ্ঠস্বর আর আইকনিক সংলাপ ‘খামোশ’ এখন আইনি রক্ষাকবচে মোড়া। শত্রুঘ্ন সিনহার ব্যক্তিত্ব, তাঁর ছবি এবং বিশেষ করে তাঁর সিগনেচার ডায়লগ নিয়ে যথেচ্ছ কারবার বন্ধ করতে ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল বম্বে হাইকোর্ট। সোশ্যাল মিডিয়া বা বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে অভিনেতার অনুমতি ছাড়া তাঁর কোনো কিছু ব্যবহার করা এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
কেন আদালতের দ্বারস্থ হলেন শত্রুঘ্ন সিনহা?
বলিউডের এই কিংবদন্তি অভিনেতা তথা রাজনীতিক দীর্ঘক্ষণ ধরেই লক্ষ্য করছিলেন যে, তাঁর নাম, কণ্ঠস্বর এবং বিখ্যাত ‘খামোশ’ সংলাপটি ইন্টারনেটে যথেচ্ছভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কোথাও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে তাঁর নকল গলা তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও তাঁর ছবি দিয়ে কুরুচিকর মিম বা বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপন চালানো হচ্ছে। নিজের ‘পার্সোনালিটি রাইটস’ বা ব্যক্তিত্বের অধিকার রক্ষায় তাই আইনের কড়া নাড়েন তিনি।
বম্বে হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
মামলাটির শুনানি চলাকালীন বম্বে হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, একজন তারকার ব্যক্তিত্ব তাঁর নিজস্ব সম্পদ। আদালত জানায়:
- ব্যক্তিত্বের অধিকার: শত্রুঘ্ন সিনহার নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর এবং তাঁর বিশেষ কথা বলার ভঙ্গি বা স্টাইল— সবটাই তাঁর ব্যক্তিগত অধিকারের অন্তর্ভুক্ত।
- অনুমতি বাধ্যতামূলক: বাণিজ্যিক মুনাফা লাভের জন্য বা কোনো বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরিতে অভিনেতার পূর্ব অনুমতি ছাড়া এই সম্পদগুলো ব্যবহার করা যাবে না।
- ডিজিটাল নিরাপত্তা: বর্তমান যুগে AI বা ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তারকাদের সম্মানহানি করা হচ্ছে, যা জনস্বার্থ ও গোপনীয়তার সরাসরি লঙ্ঘন।
অবিলম্বে মুছতে হবে সব বিতর্কিত কন্টেন্ট
আদালত বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে। বলা হয়েছে, শত্রুঘ্ন সিনহার অনুমতি ছাড়া তাঁর ছবি, গলা বা সংলাপ ব্যবহার করে যত ভিডিও বা পোস্ট আপলোড করা হয়েছে, তা অবিলম্বে ইন্টারনেট থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের কোনো কাজ করলে তা ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশের ফলে স্বস্তিতে বর্ষীয়ান অভিনেতা। ডিজিটাল দুনিয়ায় সেলিব্রেটিদের সত্তা চুরি রুখতে এই রায় এক বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ৩০ মার্চ। ততদিন পর্যন্ত ‘শটগান’ সিনহার কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কাটাছেঁড়া করা স্রেফ নিষিদ্ধ।