বঙ্গভূষণ মঞ্চে চাঁদের হাট, মমতার হাত থেকে সম্মান নিলেন ইমন থেকে পরমব্রত

২১ ফেব্রুয়ারির প্রাক্কালে কলকাতার নজরুল মঞ্চে আয়োজিত রাজ্য সরকারের বিশেষ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান ঘিরে এখন টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে এদিন বঙ্গবিভূষণ ও বঙ্গভূষণ সম্মান গ্রহণ করলেন বাংলার একঝাঁক কৃতি শিল্পী। তবে পুরস্কারের তালিকা এবং মঞ্চের সমীকরণ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক কানাঘুষো।
বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত যারা
বাংলা সংগীত জগতের প্রবীণ ও নবীন প্রতিভাদের এদিন যোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়। বর্ষীয়ান সংগীতশিল্পী শিবাজী চট্টোপাধ্যায়কে বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত করার সময় আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয় মঞ্চে। তাঁর পাশাপাশি এই বিশেষ সম্মাননা পান নচিকেতা চক্রবর্তী, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, লোপামুদ্রা মিত্র এবং শ্রীজাত। উপস্থিত ছিলেন গায়ক তথা মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়ও। তবে সবথেকে বেশি চর্চা হচ্ছে ইমন চক্রবর্তীকে নিয়ে। কিছুদিন আগেই ‘মহানায়ক’ সম্মান পাওয়া ইমনকে নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তুঙ্গে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রচারে অংশ নেওয়ায় তাঁকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল আগে। এবার বঙ্গবিভূষণ পাওয়ার পর স্টুডিও পাড়ায় গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তবে কি আগামী বিধানসভা নির্বাচনে শাসক শিবিরের প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে এই গায়িকাকে?
নজর কাড়লেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের অন্যতম বড় চমক ছিলেন অভিনেতা-পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বঙ্গভূষণ প্রাপকদের তালিকায় মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচী বা অদিতি মুন্সিদের নাম প্রত্যাশিত থাকলেও পরমব্রতর উপস্থিতি অনেককেই অবাক করেছে। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগেই ফেডারেশন এবং স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে শ্যুটিং সংক্রান্ত বিবাদে জড়িয়েছিলেন পরমব্রত। সেই তিক্ততা মিটতে না মিটতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়া যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
উৎসবের আমেজেও বিতর্কের সুর
এদিন কার্তিক দাস বাউল থেকে শুরু করে লোকসংগীত ও আধুনিক গানের শিল্পীদের মেলবন্ধনে অনুষ্ঠানটি বর্ণময় হয়ে উঠলেও, পুরস্কারের নেপথ্যে থাকা ‘রাজনৈতিক সমীকরণ’ নিয়ে ফিসফাস থামছে না। বিরোধী শিবির বা সমালোচকদের একাংশ মনে করছেন, শিল্পীদের বড় অংশকে পাশে পাওয়ার লক্ষ্যেই কি এই পুরস্কারের ডালি সাজানো হয়েছে? তবে সে যাই হোক, ভাষা দিবসের প্রাক্কালে বাংলার কৃতি সন্তানদের এই জয়গানকে স্বাগত জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।