৭৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ঘুচতে চলেছে হাজার হাজার মানুষের প্রাণের ঝুঁকি

পশ্চিম মেদিনীপুর: দীর্ঘদিনের হাহাকার আর প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ১ নম্বর ব্লকের ৪ নম্বর শ্যামনগর অঞ্চলে শিলাবতী নদীর ওপর থাকা জরাজীর্ণ কাঠের সেতুর জায়গায় অবশেষে নির্মিত হতে চলেছে মজবুত কংক্রিটের ব্রিজ। শুক্রবার ব্লক প্রশাসন সূত্রে এই খবর পাওয়ার পর থেকেই খুশির হাওয়া বইছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
বিপজ্জনক যাত্রার অবসান প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই নতুন পাকা সেতুটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে আনুমানিক ৭৬ লক্ষ টাকা। মূলত বড়মুড়া, শ্যামনগর এবং খড়্কুশমা অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন এই পথে যাতায়াত করেন। দীর্ঘ বহু বছর ধরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল একটি পাকা সেতুর। জরাজীর্ণ কাঠের ব্রিজের ওপর দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হতো স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষকে।
বর্ষার ভোগান্তি থেকে মুক্তি বর্ষাকাল এলেই শিলাবতী নদীর জলস্তর বেড়ে যেত, যার ফলে কাঠের সেতুটি প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হতো। সেই সময় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে নৌকায় করে অত্যন্ত বিপজ্জনকভাবে নদী পার হতে হতো। ব্লক প্রশাসনের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তে এবার সেই দুর্ভোগ চিরতরে মিটতে চলেছে। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি এই পাকা সেতুটি কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থাই উন্নত করবে না, বরং গ্রামীণ অর্থনীতির প্রসারেও বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ব্রিজের কাজ শেষ করে তা জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে প্রশাসন। এর ফলে কয়েক দশকের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে গড়বেতাবাসীর।