গঙ্গাজলে ধুয়ে গেল বিজেপির পাপ! বাঁকুড়ায় দলবদলুদের শোধন করে তৃণমূলে ফেরাল শাসকদল

বাঁকুড়ার ওন্দায় রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় ওলটপালট ঘটে গেল। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই গেরুয়া শিবিরে ধস নামিয়ে তৃণমূলে ফিরলেন শতাধিক কর্মী-সমর্থক। তবে এই সাধারণ দলবদলকে ছাপিয়ে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছে দলবদলুদের ‘শোধন’ প্রক্রিয়া। রীতিমতো ঘটা করে গঙ্গাজল ছিটিয়ে তাঁদের ‘পাপমুক্ত’ করে জোড়াফুল শিবিরে বরণ করে নিল স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
শোধনের মঞ্চে গঙ্গাজলের কলসি
বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লকের নিকুঞ্জপুর হাইস্কুল মোড়ে আয়োজিত এই যোগদান সভাটি ছিল আর পাঁচটা সভার চেয়ে একেবারেই আলাদা। মঞ্চের একপাশে সার দিয়ে রাখা ছিল গঙ্গাজল ভর্তি কলসি। বিজেপি ছেড়ে আসা ২০টি পরিবারের শতাধিক সদস্যকে যখন একে একে মঞ্চে ডাকা হয়, তখন তাঁদের ওপর ঘটা করে গঙ্গাজল ছেটানো শুরু করেন তৃণমূল কর্মীরা। মাইকে ঘোষণা করা হয়, “ভুল রাজনীতির পাপ আজ ধুয়ে গেল, মানুষ উন্নয়নের দলে ফিরলেন।” এই দৃশ্য দেখে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
ওন্দার রাজনৈতিক গুরুত্ব ও ভোটের অঙ্ক
বাঁকুড়ার ওন্দা ব্লকটি গত কয়েক বছর ধরেই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির অমরনাথ শাখা ১১ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন। এমনকি গত লোকসভা নির্বাচনেও এই এলাকায় বিজেপির লিড ছিল চোখে পড়ার মতো। ফলে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দলবদল এবং শতাধিক কর্মীর ঘরে ফেরা তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের দাবি, যারা একসময় ভুল বুঝে বিজেপিতে গিয়েছিলেন, তাঁরাই আজ উন্নয়নের টানে ফিরে আসছেন।
শাসক বনাম বিরোধী তরজা
তৃণমূলের এই ‘গঙ্গাজল শোধন’ নিয়ে স্বভাবতই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। দলবদল প্রসঙ্গে ব্লক তৃণমূল সভাপতি বুদ্ধদেব শর্মা বলেন, “এটা নিছক দলবদল নয়, এটা হলো ঘরে ফেরা। গঙ্গাজল পবিত্রতার প্রতীক, তাই সেই জল দিয়েই তাঁদের বরণ করা হয়েছে যাতে তাঁরা বিভাজনের রাজনীতি ভুলে উন্নয়নের পথে শামিল হতে পারেন।” ওন্দার প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ খাঁ-ও একই সুরে সুর মিলিয়েছেন।
অন্যদিকে, বিজেপি এই ঘটনাকে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছে। গেরুয়া শিবিরের পালটা দাবি, যে দল এতদিন বিজেপিকে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলে ব্যঙ্গ করত, তারা আজ নিজেদের দুর্গন্ধ মুছতে গঙ্গাজল নিয়ে রাস্তায় নেমেছে। এতে ভোটের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই তাদের বিশ্বাস। বামপন্থীরাও এই ইস্যুতে সরব হয়ে জানিয়েছে, ওয়াশিং মেশিন বা গঙ্গাজল—কোনোটা দিয়েই দুর্নীতির পাপ ঢাকা দেওয়া সম্ভব নয়।