১ মার্চ রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী, নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত কমিশনের

বিধানসভা ভোটের আগেই রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় বাহিনী—নির্বাচন কমিশনের এমন সিদ্ধান্তের কথা ইতিমধ্যে সামনে এসেছে। এবার জানা যাচ্ছে, বেনজিরভাবে মার্চের গোড়াতেই রাজ্যে এসে যাবে বিপুল সংখ্যক আধাসেনা। বিষয়টি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সঙ্গে পাকাপাকিভাবে আলোচনা সেরে ফেলেছে কমিশন। সূত্রের খবর, ১ মার্চ বাংলায় পা রাখছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের আগেই ৪৮০ কো ম্পা নি আধাসেনা মোতায়েন করা হবে রাজ্যজুড়ে।
প্রথম দফায় অর্থাৎ ১ মার্চের মধ্যে বাংলায় আসবে ২৪০ কো ম্পা নি বাহিনী। এর মধ্যে ১১০ কো ম্পা নিই সিআরপিএফ। এছাড়া বিএসএফের ৫৫ কো ম্পা নি, সিআইএসএফের ২১ কো ম্পা নি, আইটিবিপির ২৭ কো ম্পা নি এবং এসএসবি-র ২৭ কো ম্পা নি বাহিনী থাকছে। দ্বিতীয় দফা তথা ১০ মার্চের মধ্যে আসছে আরও ২৪০ কো ম্পা নি। এই তালিকায় থাকছে সিআরপিএফের ১২০ কো ম্পা নি, বিএসএফের ৬৫ কো ম্পা নি, সিআইএসএফের ১৬ কো ম্পা নি, আইটিবিপির ২০ কো ম্পা নি এবং এসএসবি-র ১৯ কো ম্পা নি জওয়ান। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যকে ইতিমধ্যে বার্তা পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জানিয়েছে, কমিশনের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের কোথায় কত কো ম্পা নি বাহিনী মোতায়েন করা হবে, তা নিয়ে দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের সঙ্গে বৈঠকে বসবে নবান্ন। তারপরই এবিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে খবর।
জানা যাচ্ছে, প্রথম পর্যায়ে অর্থাৎ ভোট ঘোষণার আগে মূলত অতি স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতেই বেশি সংখ্যক বাহিনী নিয়োগ করা হবে। কমিশনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভোটের আগে বাহিনী নিয়োগ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই বাংলায় আধাসেনা মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোটের আগে এরিয়া ডমিনেশন থেকে শুরু করে ঝামেলাপ্রবণ এলাকাগুলিতে মানুষের মনোবল বৃদ্ধি করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রেও রাজ্য পুলিশের বড়ো ভূমিকা রয়েছে।
বাংলার ভোটে হিংসার ইতিহাস পর্যালোচনার পর মোট সাতটি জেলাকে বেশি উত্তেজনাপ্রবণ হিসাবে চিহ্নিত করে রেখেছে কমিশন। সেই তালিকায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের দুই জেলা কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর। এবং দক্ষিণবঙ্গের পাঁচ জেলা—দুই ২৪ পরগনা, মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও বীরভূম। গত নির্বাচনগুলিতে এই সাত জেলাতেই বেশিরভাগ হিংসার ঘটনা ঘটেছে বলে কমিশনের খাতায় উল্লেখ রয়েছে। তাই ভোটের আগে এই জেলাগুলিতেই বেশি সংখ্যায় বাহিনী থাকবে বলে খবর। কিন্তু ভোটের আগেই এত সংখ্যক বাহিনীর প্রয়োজন কেন? সেই প্রশ্ন তুলছে বিশেষজ্ঞ মহল। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি এতটাই খারাপ যে আগেভাগেই এই বিপুল সংখ্যক বাহিনী নিয়োগ করতে হবে? কোনো চাপের মুখে পড়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে না তো?