‘BJP-তে যাওয়া ঐতিহাসিক ভুল!’ মমতার বিরুদ্ধে লড়া নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু এবার তৃণমূলে

‘BJP-তে যাওয়া ঐতিহাসিক ভুল!’ মমতার বিরুদ্ধে লড়া নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র বসু এবার তৃণমূলে

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড়সড় রদবদল ঘটে গেল। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কিংবদন্তি নেতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসু আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগদান করেছেন। রবিবার তৃণমূল ভবনে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং সাংসদ কীর্তি আজাদের উপস্থিতিতে তিনি ঘাসফুল শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেন। একসময় বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতির দায়িত্ব সামলানো এই নেতার দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।

আদর্শগত সংঘাত ও মোহভঙ্গ

তৃণমূলে যোগ দিয়েই চন্দ্র বসু নিজের অতীত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানান যে, ২০১৬ সালে বিজেপিতে যোগদান করা তাঁর একটি ‘ঐতিহাসিক ভুল’ ছিল। তাঁর মতে, বিজেপির নীতি ও কর্মকাণ্ড ভারতের সংবিধানের পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করেন যে, বিভাজনের রাজনীতি বর্তমান ভারতের জন্য ক্ষতিকর এবং এই মুহূর্তে নেতাজির অসাম্প্রদায়িক ‘ভারতবর্ষ’ ভাবনাই দেশ রক্ষার একমাত্র পথ।

বিজেপির সঙ্গে দূরত্বের নেপথ্যে

দীর্ঘদিন ধরেই গেরুয়া শিবিরের সঙ্গে চন্দ্র বসুর দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে তাঁর এই মোহভঙ্গ হয়েছে:

  • আদর্শিক বিচ্যুতি: চন্দ্র বসুর দাবি, তিনি শরৎচন্দ্র বসু এবং নেতাজির আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করতে চেয়েছিলেন। বিজেপি সেই আশ্বাস দিলেও কাজে তার প্রতিফলন ঘটেনি।
  • প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান: বাংলার উন্নয়নের জন্য তিনি একাধিক প্রস্তাব রাখলেও বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা গুরুত্ব দেয়নি বলে তাঁর অভিযোগ।
  • বিভাজনের রাজনীতি: ভোটের স্বার্থে ভোটারদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার প্রচেষ্টাকে তিনি মেনে নিতে পারেননি বলে সমাজমাধ্যমে আগেই সরব হয়েছিলেন।
  • নাগরিকত্ব বিতর্ক: এসআইআর (SIR) শুনানিতে ডাক পাওয়ার পর নিজের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় কেন্দ্রের শাসক দলের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ভোট রাজনীতির প্রেক্ষাপট

চন্দ্র বসু এর আগে দুবার বিজেপির টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ২০১৬ সালে তিনি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর কেন্দ্রে লড়েছিলেন এবং ২০১৯ সালে দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও কোনোবারই তিনি জয়ী হতে পারেননি। এবার সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই ‘দেশনেত্রী’ হিসেবে মেনে নিয়ে তাঁর লড়াইয়ে শামিল হলেন চন্দ্র বসু।

রাজনৈতিক প্রভাব

বিধানসভা নির্বাচনের আগে নেতাজি পরিবারের কোনো সদস্যের শাসক দলে অন্তর্ভুক্তি তৃণমূলের জন্য বাড়তি মাইলেজ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বাঙালির আবেগ এবং নেতাজির ঐতিহ্যকে সামনে রেখে বিজেপি যে প্রচার চালায়, চন্দ্র বসুর দলবদল সেই জায়গায় বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে।

একঝলকে

  • দলবদল: বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেন চন্দ্র কুমার বসু।
  • উপস্থিতি: পতাকা তুলে দিলেন ব্রাত্য বসু ও কীর্তি আজাদ।
  • বিগত অবস্থান: পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন সহ-সভাপতি ও ভবানীপুরের প্রাক্তন প্রার্থী।
  • মূল অভিযোগ: বিজেপির বিভাজনের রাজনীতি ও সংবিধান বিরোধী অবস্থান।
  • ভবিষ্যৎ লক্ষ্য: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নেতাজির আদর্শ প্রচার করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *