CBSE প্রশ্নপত্রের কিউআর কোড স্ক্যান করতেই স্ক্রিনে অরি, শুরু নতুন বিতর্ক

CBSE প্রশ্নপত্রের কিউআর কোড স্ক্যান করতেই স্ক্রিনে অরি, শুরু নতুন বিতর্ক

সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসই (CBSE) বোর্ডের পরীক্ষা সাধারণত নম্বর ও মেধা তালিকার জন্য খবরের শিরোনামে থাকে। তবে ২০২৬ সালের দ্বাদশ শ্রেণীর পরীক্ষায় প্রযুক্তিগত এক অদ্ভুত বিভ্রাট ঘিরে দানা বেঁধেছে নতুন বিতর্ক। এবার ইতিহাস পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের কিউআর কোড স্ক্যান করে সোশ্যাল মিডিয়ার পরিচিত মুখ ওরহান আওয়াত্রামানি ওরফে ‘অরি’-র ভিডিও এবং সার্চ পেজ খুঁজে পেল পরীক্ষার্থীরা।

গত ৩০ মার্চ দ্বাদশ শ্রেণীর ইতিহাস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, ওই পরীক্ষার সেট-১ এবং সেট-৩—উভয় প্রশ্নপত্রের কিউআর কোড স্ক্যান করতেই পরীক্ষার্থীরা অরির সম্পর্কিত সার্চ রেজাল্টে পৌঁছে যায়। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত গতিতে এর ভিডিও এবং বিভিন্ন পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। স্বয়ং অরিও তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও শেয়ার করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, সিবিএসই পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে থাকা তাঁর কাছে স্বপ্নের মতো।

তবে এই প্রথম নয়, চলতি মাসেই সিবিএসই-র প্রশ্নপত্র ঘিরে এমন ঘটনা আরও একবার ঘটেছিল। গত ৯ মার্চ গণিত পরীক্ষার কিউআর কোড স্ক্যান করার পর পরীক্ষার্থীরা রিক অ্যাস্টলির একটি বিখ্যাত গানের ভিডিও লিঙ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। সেই সময় ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। পর পর দুইবার এহেন ঘটনায় জাতীয় স্তরের এই পরীক্ষার প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

বোর্ডের পক্ষ থেকে এর আগে জানানো হয়েছিল যে, প্রশ্নপত্রের কিউআর কোড মূলত নিরাপত্তার খাতিরে এবং সত্যতা যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে কোনো বিনোদনমূলক কন্টেন্ট দেখানোর পরিকল্পনা থাকে না। কিন্তু বারবার কেন এমন লিঙ্কে পরীক্ষার্থীরা পৌঁছে যাচ্ছে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কিউআর কোড ম্যানেজমেন্টের কোনো ক্রুটি অথবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত গাফিলতির ফল হতে পারে।

এই ঘটনাটি মজার ছলে দেখা হলেও সিবিএসই-র মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ বোর্ডের ক্ষেত্রে এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বজায় রাখা যেখানে মূল লক্ষ্য, সেখানে এ ধরনের বিপত্তি কেন ঘটছে তা নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতি এবং সাম্প্রতিক এই বিতর্ক নিয়ে সিবিএসই-র পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি মেলেনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *