FASTag নিয়ে কড়া নিয়ম: ১০ এপ্রিলের পর পকেটে টান, টোল প্লাজায় গুনতে হবে বাড়তি মাসুল

ভারতের জাতীয় সড়কের টোল ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পরিবর্তন নিয়ে এল কেন্দ্রীয় সরকার। গত ১০ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে দেশের সমস্ত টোল প্লাজায় নগদ অর্থে টোল প্রদান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মূলত যানজট মুক্ত যাতায়াত এবং টোল আদায়ের প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এই নতুন নিয়মের ফলে ডিজিটাল পেমেন্ট বা ফাসট্যাগ (FASTag) না থাকলে গাড়ি চালকদের অতিরিক্ত আর্থিক দণ্ডের মুখে পড়তে হবে।
ডিজিটাল বিপ্লব ও টোল প্লাজার নতুন চিত্র
মহাসড়কগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং সময়ের অপচয় রোধ করতে সরকার টোল আদায় প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন থেকে টোল প্লাজাগুলো শুধুমাত্র ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। নগদ লেনদেন বন্ধ হওয়ার ফলে টোল আদায়ের হিসেবে ভুলত্রুটি কমার পাশাপাশি দুর্নীতি রোধ করাও সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ফাসট্যাগ না থাকলে বাড়তি খরচের বোঝা
সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, টোল দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হিসেবে ফাসট্যাগকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তবে আপনার গাড়িতে যদি ফাসট্যাগ না থাকে, সেক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থার নিয়মগুলি বেশ ব্যয়বহুল:
- ইউপিআই পেমেন্টে বাড়তি চার্জ: গাড়িতে ফাসট্যাগ না থাকলে ইউপিআই (UPI) ব্যবহার করে টাকা দেওয়া যাবে, তবে সেক্ষেত্রে সাধারণ টোল ভাড়ার ১.২৫ গুণ অর্থ এবং সাথে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ সেস দিতে হবে।
- দ্বিগুণ জরিমানার ঝুঁকি: যদি কোনও চালক ন্যূনতম ব্যালেন্স ছাড়া বা কালো তালিকাভুক্ত (Blacklisted) ট্যাগ নিয়ে ফাসট্যাগ লেনে প্রবেশ করেন, তবে তাকে দ্বিগুণ পরিমাণ টোল দিতে হবে।
- ই-নোটিশ ও আইনি পদক্ষেপ: ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা দিতে ব্যর্থ হলে চালকের নামে ই-নোটিশ পাঠানো হবে। ৩ দিনের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে সেই টাকার পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যাবে। ১৫ দিনের বেশি সময় পার হলে বিষয়টি গাড়ির সরকারি ডেটাবেসে নথিভুক্ত করা হবে, যা ভবিষ্যতে গাড়ি হস্তান্তর বা ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
টোল চার্জের নতুন হার
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য টোল চার্জেও সামান্য সংশোধন আনা হয়েছে। ১ এপ্রিল থেকে বার্ষিক ফাসট্যাগ পাসের দাম ৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। আগে যা ৩,০০০ টাকা ছিল, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৩,০৭৫ টাকায়। এই হার মূলত ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ এবং ভ্যানসহ অ-বাণিজ্যিক যানবাহনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
যাত্রীদের জন্য সতর্কবার্তা
কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বৈধ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা না থাকলে কোনো গাড়িকে মহাসড়কে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। এমনকি প্রয়োজনে মহাসড়কের লেন থেকে গাড়ি সরিয়ে দেওয়ার অধিকারও টোল কর্তৃপক্ষের থাকবে। তাই অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা ও বাড়তি খরচ এড়াতে দ্রুত ফাসট্যাগ রিচার্জ করা এবং গাড়িতে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখা জরুরি।
একঝলকে
- ১০ এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়কে নগদ টাকা লেনদেন সম্পূর্ণ বন্ধ।
- ফাসট্যাগ না থাকলে ইউপিআই-তে দিতে হবে ১.২৫ গুণ বেশি টাকা।
- কালো তালিকাভুক্ত ট্যাগের জন্য দিতে হবে দ্বিগুণ জরিমানা।
- বকেয়া টাকা ১৫ দিনের বেশি না মেটালে গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট আটকে যেতে পারে।
- বার্ষিক ফাসট্যাগ পাসের মূল্য বেড়ে হয়েছে ৩,০৭৫ টাকা।