Jafar Panahi: বিশ্ব বিখ্যাত পরিচালক হয়েও ২০ বছর ধরে গৃহবন্দী, কেন খামেইনির চক্ষুশূল ছিলেন জাফর পানাহি?

ইরানি পরিচালক জাফর পানাহি এবং শিল্পের মাধ্যমে স্বৈরশাসনবিরোধী সংগ্রামের উপাখ্যান
বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক জাফর পানাহি বর্তমানে কেবল একটি নাম নয়, বরং দমনপীড়নের বিরুদ্ধে এক অপরাজেয় শৈল্পিক প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। ইরানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই কালজয়ী নির্মাতার জীবন ও সংগ্রাম পুনরায় আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। প্রকাশ্যেই ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু’ স্লোগান তুলে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানো পানাহি দীর্ঘ দুই দশক ধরে নিজ দেশেই গৃহবন্দী ও নানা নিষেধাজ্ঞার কবলে রয়েছেন।
২০১০ সালে ইরানের একটি আদালত পানাহির ওপর ২০ বছরের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণ, সাক্ষাৎকার প্রদান এবং দেশত্যাগের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তবে এই আইনি বেড়াজাল তাঁকে স্তব্ধ করতে পারেনি। সেন্সরশিপের চরম আবহে নিজের বাড়িকেই স্টুডিওতে রূপান্তর করে তিনি নির্মাণ করেন ‘দিস ইজ নট এ ফিল্ম’-এর মতো চলচ্চিত্র, যা গোপনে পেন ড্রাইভে করে বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানো হয়। তাঁর প্রতিটি নির্মাণে সমাজের বাস্তবতা, রাষ্ট্রীয় দমননীতি এবং সাধারণ মানুষের নীরব ক্ষোভ অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ফুটে উঠেছে।
বর্তমানে ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি আরও কঠোর হওয়ায় পানাহির মতো ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পীদের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে কান বা বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মঞ্চে তিনি সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত হলেও, নিজ দেশে তাঁকে প্রতিনিয়ত কারাবাস ও নজরবন্দির মোকাবিলা করতে হচ্ছে। মূলত ক্ষমতার অন্ধ দাপটের বিরুদ্ধে ক্যামেরাকে হাতিয়ার করে সত্য তুলে ধরার কারণেই তিনি দীর্ঘকাল ধরে শাসকদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছেন। জাফর পানাহির এই জীবনসংগ্রাম আজ বিশ্ববাসীর কাছে সৃজনশীল স্বাধীনতার এক অনন্য দলিল।