LPG সিলিন্ডার সরবরাহে আমূল পরিবর্তন, সরাসরি গুদাম থেকে কেনায় নিষেধাজ্ঞা

LPG সিলিন্ডার সরবরাহে আমূল পরিবর্তন, সরাসরি গুদাম থেকে কেনায় নিষেধাজ্ঞা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতে এলপিজি সিলিন্ডার সংক্রান্ত একাধিক নিয়মে বড় ধরনের বদল আনা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইসিএ (ECA) অ্যাক্ট কার্যকর করার পাশাপাশি বুকিং পদ্ধতি এবং সিলিন্ডার বিতরণে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে দিল্লি ও ওড়িশা সরকার গ্রাহকদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, যা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় কোনো গ্রাহক সরাসরি গ্যাস এজেন্সির গুদাম থেকে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে পারবেন না। দিল্লি সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটররা সরাসরি গুদাম থেকে কোনো গ্রাহকের কাছে সিলিন্ডার বিক্রি করতে পারবেন না। এই নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মূলত নিরাপত্তা এবং সঠিক সরবরাহ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত।

ওড়িশা সরকারও সিলিন্ডার ডেলিভারির ক্ষেত্রে ই-কেওয়াইসি (e-KYC) বাধ্যতামূলক করেছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খোলা বাজারে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ। শুধুমাত্র যেসব গ্রাহকের ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, ডিস্ট্রিবিউটররা তাদেরই সিলিন্ডার সরবরাহ করতে পারবেন। এর ফলে ভুয়া সংযোগ চিহ্নিত করা এবং ভর্তুকি সঠিক গ্রাহকের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পরিযায়ী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ৫ কেজির ছোট সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ ছাড়াই শুধুমাত্র একটি বৈধ পরিচয়পত্র দেখিয়ে যেকোনো গ্যাস এজেন্সি থেকে ছোট সিলিন্ডার কেনা যাবে। আগে ঠিকানার প্রমাণপত্র না থাকায় নিম্নবিত্ত ও পরিযায়ী শ্রমিকদের এলপিজি সংযোগ পেতে যে ভোগান্তি পোহাতে হতো, এই সিদ্ধান্তের ফলে তা দূর হবে।

সিলিন্ডার বুকিংয়ের সময়সীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। শহরাঞ্চলে বুকিংয়ের মেয়াদ ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন এবং গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ দিন করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘরোয়া রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রে ওটিপি (OTP) ভিত্তিক ডেলিভারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ, রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি প্রদান না করলে সিলিন্ডার মিলবে না। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ক্ষেত্রেও পিএনজি (PNG) সংযোগের প্রমাণ দেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে দিল্লি সরকার।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সিলিন্ডারের দামেও বড় পরিবর্তন এসেছে। গত ৭ মার্চ থেকে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম গত এক মাসে তিনবার বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের এই নতুন নিয়মাবলি ও দাম বৃদ্ধি সাধারণ গ্রাহকদের পকেটে যেমন চাপ তৈরি করছে, তেমনি সুশৃঙ্খল সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে প্রশাসন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *