SIR-এ ১ কোটি ৭০ লাখ নাম বাদ, বাংলায় কী হতে পারে?

SIR-এ ১ কোটি ৭০ লাখ নাম বাদ, বাংলায় কী হতে পারে?

ভারতের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে SIR বা ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন। আর ইতিমধ্যেই ৯টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১.৭০ কোটির বেশি মানুষের নাম ফাইনাল ভোটার লিস্ট থেকে বাদ গিয়েছে। এমনটাই জানা গিয়েছে সরকারি তথ্যে। 

এই তথ্য মিলেছে গুজরাত, পন্ডিচেরি, লাক্ষাদ্বীপ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়, আন্দামান-নিকোবর, গোয়া এবং কেরল থেকে। সেখানে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবরের আগে ভোটার সংখ্যা ছিল ২১.৪৫ কোটি। আর সেই ভোটার তালিকা এখন নেমে গিয়েছে ১৯.৭৫ কোটিতে। মোট ভোটার সংখ্যা কমেছে ১.৭০ কোটির বেশি। 

প্রসঙ্গত, এখনও পশ্চিমবঙ্গের ফাইনাল ভোটার লিস্ট বেরয়নি। খসড়া তালিকাতেই ৫৮ লক্ষের বেশি নাম বাদ গিয়েছিল। সেটা আরও বাড়তে পারে। পেরিয়ে যেতে পারে ৬০ লক্ষের গণ্ডি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আসলে ১২ রাজ্য এবং কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে চলছে SIR। এই সব রাজ্যতে মোট ৬০ কোটি ভোটার রয়েছে। 

মাথায় রাখতে হবে যে বিহারে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন হয়েছে। সেখানেও বাদ গিয়েছে অনেক ভোটারের নাম। আর আসামে SIR হয়নি, সেখানে স্পেশাল রিভিশন হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে ১০ ফেব্রুয়ারি। 

আর চলতি SIR-এ একাধিক সমস্যায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের সঙ্গে মামলা চলছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের। যার ফলে বারবার পিছিয়েছে ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন। অবশেষে ২৮ ফেব্রুয়ারি বেরবে ভোটার তালিকা। আর সেখানে যে একটা বড় সংখ্যার নাম বাদ চলতে চলেছে, এটা এখনই পরিষ্কার।

জুডিশিয়াল অফিসাররা থাকবেন শুনানিতে
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট SIR নিয়ে বড় রায় দিয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণ, তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার ও ইলেকশন কমিশনের মধ্যে অবিশ্বাস রয়েছে। তাই আদালত জানায়, SIR প্রক্রিয়া তদারকির জন্য কর্মরত বা অতিরিক্ত জেলা বিচারকদের জুডিশিয়াল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হবে। তাঁদের নিয়োগ করবেন কলকাতা হাইকোর্টের এর প্রধান বিচারপতি। এই জুডিশিয়াল অফিসারদের নির্দেশকেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ বলে ধরে নিতে হবে। সেই নিয়ম মেনেই সবপক্ষকে চলতে হবে। আর কোনও মত শোনা হবে না।

শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি ও বিপুল এম পাঞ্চোলি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘বর্তমানে চলতে থাকা SIR প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করাই প্রধান বিষয়। কিন্তু রাজ্য সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে দুই সাংবিধানিক সংস্থার মধ্যে বিশ্বাসের সংকট স্পষ্ট হচ্ছে।’ তাই এমন একটি রায় দেওয়া হল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *