SSC নিয়োগ জট ১ বছর পরেও কি কাটল না? ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের বর্ষপূর্তিতে বড় আপডেট

SSC নিয়োগ জট ১ বছর পরেও কি কাটল না? ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের বর্ষপূর্তিতে বড় আপডেট

২০১৬ সালের এসএসসির নিয়োগ প্যানেল বাতিলের ঐতিহাসিক রায়ের এক বছর পূর্ণ হলো। গত ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট দুর্নীতির অভিযোগে ২৬ হাজার শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ বাতিল ঘোষণা করেছিল। শীর্ষ আদালতের সেই নির্দেশের পর কেটে গেছে দীর্ঘ ১২ মাস, কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ধোঁয়াশা এখনও পুরোপুরি কাটেনি বলে দাবি করছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ।

আদালতের নির্দেশের পর কমিশন শিক্ষক নিয়োগের নতুন পরীক্ষা সম্পন্ন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে নিয়ে এলেও শিক্ষাকর্মী পদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। বিশেষ করে গ্রুপ-সি এবং গ্রুপ-ডি পদের নিয়োগ নিয়ে জটিলতা এখনও বর্তমান। গত ১ এবং ৮ মার্চ এই দুই পদের জন্য নতুন করে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে পরীক্ষার পর এক মাস অতিক্রান্ত হতে চললেও ফলাফল প্রকাশ নিয়ে কোনও স্পষ্ট বার্তা মেলেনি।

শিক্ষাকর্মী পদের পরীক্ষার্থীরা বর্তমানে তীব্র উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। মেধা তালিকা কবে প্রকাশিত হবে এবং কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে, সেই বিষয়ে কমিশনের পক্ষ থেকে কোনও সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ জানানো হয়নি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পরীক্ষা দিলেও নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর অনিশ্চয়তা।

অন্যদিকে, ২০১৬ সালের প্যানেল বাতিল হওয়ার ফলে যে শূন্যপদ তৈরি হয়েছিল, তা দ্রুত পূরণের জন্য প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছিল। শিক্ষক পদের ক্ষেত্রে দ্রুততা বজায় থাকলেও অশিক্ষক কর্মীদের ক্ষেত্রে কেন দেরি হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট মহল। কমিশনের অন্দরে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আইনি ও যান্ত্রিক প্রস্তুতি চললেও তা এখনও চূড়ান্ত রূপ পায়নি।

বর্তমানে পরীক্ষার্থীদের মূল দাবি হলো স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রুত রেজাল্ট প্রকাশ এবং স্বচ্ছ নিয়োগ। এক বছর আগের সেই রায় রাজ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখনও অধরা। বিশেষ করে গ্রুপ-সি ও ডি পদের প্রার্থীরা নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়া পর্যন্ত এই ধন্দ কাটবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের এক বছর পরেও এসএসসি নিয়োগ ঘিরে রাজ্যে বিতর্কের অবসান হয়নি। আইনি জট এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় আটকে থাকা হাজার হাজার প্রার্থীর ভবিষ্যৎ এখন মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *