UPI পেমেন্টে বড় বদল! ১০ হাজার টাকার বেশি পাঠালেই কি ১ ঘণ্টা অপেক্ষা? জানুন RBI-এর নতুন প্রস্তাব

UPI পেমেন্টে বড় বদল! ১০ হাজার টাকার বেশি পাঠালেই কি ১ ঘণ্টা অপেক্ষা? জানুন RBI-এর নতুন প্রস্তাব

ডিজিটাল আর্থিক লেনদেনে জালিয়াতি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। সাম্প্রতিক এক প্রস্তাবনায় জানানো হয়েছে, ১০ হাজার টাকার বেশি অঙ্কের ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট-টু-অকাউন্ট ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে অন্তত এক ঘণ্টার বিলম্ব বা ‘টাইম ল্যাগ’ রাখা হতে পারে। এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভুলবশত বা প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা পাঠালে তা বাতিলের সুযোগ করে দেওয়া।

নিরাপত্তা ও জালিয়াতি নিয়ন্ত্রণ

বর্তমানে দ্রুতগতির ডিজিটাল লেনদেনের যুগে অনলাইন জালিয়াতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথ্যানুযায়ী, ১০ হাজার টাকার উপরের লেনদেনগুলো মোট জালিয়াতির সংখ্যার প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং মূল্যের বিচারে ৯৮.৫ শতাংশ। গত পাঁচ বছরে ডিজিটাল ফ্রড বা জালিয়াতির পরিমাণ ৪১ গুণ বেড়ে প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতেই এক ঘণ্টার এই ‘উইন্ডো’ বা সময়সীমার প্রস্তাব দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এর ফলে টাকা পাঠানোর পর গ্রাহক সন্দেহজনক কিছু আঁচ করলে লেনদেনটি বাতিল করার সুযোগ পাবেন।

ব্যাঙ্কগুলোর উদ্বেগ ও পরিকাঠামো চ্যালেঞ্জ

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের এই প্রস্তাবে ব্যাঙ্কগুলোর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে তারা নিরাপত্তার বিষয়টিকে স্বাগত জানালেও, অন্যদিকে ইউপিআই-এর ‘ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট’ বা তাৎক্ষণিক লেনদেনের যে বিশেষত্ব রয়েছে, তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছে। এছাড়া দৈনিক প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ কোটি ইউপিআই লেনদেনের একটি অংশকে এক ঘণ্টা আটকে রাখার জন্য প্রয়োজন বিশাল আইটি পরিকাঠামো এবং উন্নত ডেটা স্টোরেজ ক্ষমতা। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলোর পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।

লেনদেনের সীমা বাড়ানোর দাবি

ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক সুবিধার কথা মাথায় রেখে অনেক ব্যাঙ্ক এই ১০ হাজার টাকার সীমা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা বা তার বেশি করার দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, বড় অঙ্কের লেনদেনে ঝুঁকির পরিমাণ বেশি থাকে, তাই সীমা কিছুটা বেশি হলে সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন ছোটখাটো লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়বে না। ব্যাঙ্কগুলো এই বিষয়ে ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কস অ্যাসোসিয়েশনের (IBA) সাথে আলোচনা করছে।

কারা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন

সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা চিন্তা করে সব ধরণের লেনদেনে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। দোকানদার বা মার্চেন্ট পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো বিলম্ব থাকবে না, কারণ তাদের কেওয়াইসি (KYC) যাচাই করা থাকে। এছাড়া গ্রাহকরা তাদের পরিচিত বা নিয়মিত লেনদেন করা অ্যাকাউন্টগুলোকে ‘হোয়াইট লিস্ট’ করে রাখতে পারবেন, যাতে সেই নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা পাঠাতে কোনো সময় নষ্ট না হয়।

একঝলকে

  • ১০ হাজার টাকার বেশি ডিজিটাল লেনদেনে ১ ঘণ্টার বিলম্বের প্রস্তাব।
  • জালিয়াতি রুখতে এবং টাকা পুনরুদ্ধারের সুযোগ দিতেই এই পরিকল্পনা।
  • মার্চেন্ট পেমেন্ট বা দোকানদারদের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো দেরি হবে না।
  • পরিচিত অ্যাকাউন্টে তাৎক্ষণিক টাকা পাঠানোর জন্য ‘হোয়াইট লিস্ট’ সুবিধা থাকবে।
  • ব্যাঙ্কগুলো এই সীমা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *