অতিরিক্ত জল পানের অভ্যাস ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ, সাবধান না হলে হতে পারে মৃত্যুও

অতিরিক্ত জল পানের অভ্যাস ডেকে আনছে মারাত্মক বিপদ, সাবধান না হলে হতে পারে মৃত্যুও

সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত জল পানের বিকল্প নেই, চিকিৎসকরাও সবসময় শরীর হাইড্রেটেড রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু অতি সচেতনতা থেকে আমরা অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জল পান করে ফেলি, যা অজান্তেই শরীরের বড়সড় ক্ষতি করছে। সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, মাত্রাতিরিক্ত জল পান করলে শরীরের ‘ইলেক্ট্রোলাইট’ ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে রক্তে সোডিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমে যেতে পারে, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘হাইপোনাট্রেমিয়া’ বলা হয়। এটি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতাকে ব্যাহত করে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।

আহারতত্ত্ববিদদের মতে, প্রত্যেকের জলের চাহিদা এক নয়; এটি বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং আবহাওয়াভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণত প্রতিদিন ৮ গ্লাস জল পানের একটি প্রচলিত ধারণা থাকলেও সেটি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষদের জন্য দিনে গড়ে ৩.৭ লিটার এবং মহিলাদের জন্য ২.৭ লিটার তরল (খাবার ও পানীয় মিলিয়ে) যথেষ্ট। কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে জল খাওয়ার চেয়ে শরীরের নিজস্ব সংকেত বা তৃষ্ণার ওপর গুরুত্ব দেওয়া বেশি জরুরি। অতিরিক্ত জল পান করলে কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়, যা অঙ্গটির কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

শরীরে যখন জলের পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের রং জলের মতো একদম স্বচ্ছ হয়ে যাওয়া এবং সারাক্ষণ বমি বমি ভাব বা মাথাব্যথা অনুভব করা অতিরিক্ত জল পানের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় হাত, পা বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যাও তৈরি হয়। এর কারণ হলো শরীর যখন বাড়তি জল বের করে দিতে হিমশিম খায়, তখন কোষের ভেতর জল জমে গিয়ে এই ধরনের স্ফীতি তৈরি করে।

অতিরিক্ত জল পানের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাব পড়ে আমাদের মস্তিষ্কে। রক্তে সোডিয়াম কমে গেলে মস্তিষ্ক ফুলে উঠতে পারে, যার ফলে তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, এমনকি খিঁচুনি পর্যন্ত হতে পারে। গুরুতর পরিস্থিতিতে ব্যক্তি জ্ঞান হারাতে পারেন এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে। এছাড়া রক্তে তরলের পরিমাণ হঠাৎ বেড়ে গেলে হৃদযন্ত্রের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা হার্টের রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মূলত শরীরের খনিজ উপাদানগুলো সঠিক মাত্রায় না থাকলে স্নায়ুতন্ত্র অকেজো হয়ে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ থাকার চাবিকাঠি হলো ভারসাম্য বজায় রাখা। পর্যাপ্ত জল পান যেমন শরীর থেকে টক্সিন বের করে দেয়, তেমনই অতিরিক্ত পানীয় শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজগুলোকেও ধুয়ে বের করে দেয়। তাই তৃষ্ণা পেলে তবেই জল পান করুন এবং শরীরের স্বাভাবিক সংকেতগুলো বোঝার চেষ্টা করুন। যদি আপনার দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রস্রাব বা ক্লান্তি দেখা দেয়, তবে জলের পরিমাণ নিয়ে সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পরিমিত জল পান এবং সঠিক জীবনযাত্রাই পারে আপনার কিডনি ও মস্তিষ্ককে সুরক্ষিত রাখতে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *