অতিরিক্ত প্রোটিন সেবনে অজান্তেই কি শরীরের ক্ষতি হচ্ছে বুঝুন ৫টি লক্ষণ দেখে

আজকের যুগে ফিটনেস সচেতনতা বাড়ার সাথে সাথে ডায়েটে প্রোটিন বা প্রোটিন পাউডার ব্যবহারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পেশি গঠন কিংবা ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে অনেকেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়াই অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করছেন। শরীর সুস্থ রাখতে প্রোটিন একটি অপরিহার্য পুষ্টি উপাদান হলেও এর অতিরিক্ত সেবন স্বাস্থ্যের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। যখন শরীর প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করে, তখন সেটি বিভিন্ন শারীরিক উপসর্গের মাধ্যমে আমাদের সতর্ক সংকেত পাঠাতে শুরু করে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত প্রোটিন সেবনের প্রথম এবং প্রধান লক্ষণ হলো কিডনির ওপর অত্যধিক চাপ পড়া। অতিরিক্ত প্রোটিন বিপাকের সময় কিডনিকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি কাজ করতে হয়। এর ফলে প্রস্রাবের রঙে পরিবর্তন আসা কিংবা প্রস্রাবে ফেনা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার যদি নিয়মিত কিডনিজনিত অস্বস্তি অনুভূত হয়, তবে বুঝতে হবে আপনার প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা শরীরের সহনক্ষমতা ছাড়িয়ে গেছে।
শরীরে প্রোটিনের আধিক্য ঘটলে ঘন ঘন তৃষ্ণা পাওয়া এবং ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার সমস্যা তৈরি হয়। অতিরিক্ত প্রোটিনের ফলে উৎপন্ন নাইট্রোজেন শরীর থেকে বের করে দেওয়ার জন্য প্রচুর পরিমাণ জলের প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত জল পান করার পরেও যদি শরীর শুষ্ক লাগে বা বারবার জল তেষ্টা পায়, তবে তা প্রোটিনের আধিক্যের দিকেই ইঙ্গিত করে। এছাড়া অতিরিক্ত প্রোটিন হজম প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস বা ডায়েরিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
অনেকেই মনে করেন প্রোটিন কেবল পেশি গঠনে সাহায্য করে, কিন্তু প্রোটিনের অতিরিক্ত ক্যালোরি শরীরে ফ্যাট হিসেবে জমা হতে পারে। যদি প্রোটিন ডায়েটে থাকার পরেও ওজন না কমে বরং বাড়তে থাকে, তবে বুঝতে হবে আপনার ডায়েট চার্টে ভারসাম্য নেই। পাশাপাশি মুখে দুর্গন্ধ হওয়াও অতিরিক্ত প্রোটিনের একটি বড় লক্ষণ। শরীর যখন কার্বোহাইড্রেটের বদলে ফ্যাট পোড়াতে শুরু করে, তখন কিটোসিস প্রক্রিয়ার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসে এক ধরনের অস্বস্তিকর গন্ধের সৃষ্টি হয়।
অতিরিক্ত প্রোটিন সেবনের ফলে শরীরের হাড়ের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে শরীরে প্রোটিনের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে গেলে হাড় থেকে ক্যালসিয়াম বেরিয়ে যেতে শুরু করে। এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে যাওয়া এবং জয়েন্টে ব্যথার মতো দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বয়স ও ওজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। সুস্থ থাকতে যেকোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে সর্বদা অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়।