অবহেলার শিকার এন্ডোমেট্রিওসিস, কর্মজীবী নারীদের স্বাস্থ্যের নীরব সংকট

অবহেলার শিকার এন্ডোমেট্রিওসিস, কর্মজীবী নারীদের স্বাস্থ্যের নীরব সংকট

আজকের দ্রুতগতির জীবনে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অনেক নারীই এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো গুরুতর শারীরিক সমস্যাকে উপেক্ষা করছেন। চিকিৎসকদের মতে, জরায়ুর টিস্যু শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার এই যন্ত্রণাদায়ক ব্যাধিটি শনাক্ত করতে গড়ে ৪ থেকে ১২ বছর সময় লেগে যাচ্ছে। পিরিয়ডের তীব্র ব্যথাকে ‘স্বাভাবিক’ মনে করার সামাজিক প্রবণতা এবং অফিসের কাজের চাপে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হওয়া এই বিলম্বের অন্যতম কারণ।

এন্ডোমেট্রিওসিসকে একটি ‘ছদ্মবেশী রোগ’ বলা হয়, কারণ এর উপসর্গগুলো সাধারণ ক্লান্তি বা হরমোনের সমস্যার সাথে মিলে যায়। কর্মক্ষেত্রে পিরিয়ড সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনার অভাব এবং কেরিয়ারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কায় অনেক নারীই দীর্ঘস্থায়ী পিঠ বা পেটে ব্যথা সহ্য করে নীরবে লড়াই চালিয়ে যান। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এটি পরবর্তীতে বন্ধ্যাত্ব এবং গভীর মানসিক অবসাদের মতো জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভর না করে শরীরের ছোট ছোট সংকেতগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। নিয়মিত গাইনোকলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। নিজের শরীরকে অবহেলা না করে প্রাথমিক পর্যায়ে পদক্ষেপ গ্রহণই এন্ডোমেট্রিওসিসের দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *