অস্তিত্ব সংকটে দেশের ঐতিহ্যবাহী শাড়ি, আধুনিক ফ্যাশনে ফিরুক কুনবি ও হিমরুর আভিজাত্য

সময়ের বিবর্তনে তরুণ প্রজন্মের ঝোঁক এখন পশ্চিমি পোশাকে। স্বাচ্ছন্দ্যের দোহাই দিয়ে অফিস বা নিত্যদিনের কাজে শাড়ি ব্রাত্য হলেও বিশেষ অনুষ্ঠানে লিনেন বা কাঞ্জিভরমের কদর রয়েছে। তবে এই ট্রেন্ডের মাঝেও হারিয়ে যাচ্ছে ভারতের বেশ কিছু ঐতিহ্যবাহী শাড়ি। গোয়ার কুনবি, তেলেঙ্গানার গোল্লাভামা কিংবা ঔরঙ্গাবাদের রাজকীয় হিমরুর মতো অমূল্য শিল্পকলা আজ গভীর অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে।
বাংলার টাঙ্গাইল বা বেগমপুরী শাড়ির জনপ্রিয়তা কিছুটা বজায় থাকলেও ভিনরাজ্যের কারুকাজ আজ ব্যাকফুটে। বিশেষ করে প্রাকৃতিক রঞ্জকে তৈরি চেক নকশার কুনবি শাড়ি কিংবা কর্ণাটকের পাতেদা আঞ্চু এখনকার প্রজন্মের কাছে প্রায় অপরিচিত। অথচ এই শাড়িগুলো অত্যন্ত পরিবেশবান্ধব এবং আরামদায়ক। এমনকি তেলেঙ্গানার জিআই ট্যাগপ্রাপ্ত গোল্লাভামা শাড়ির নিপুণ বুননশিল্পও এখন বিলুপ্তির পথে।
ঐতিহ্য বাঁচাতে এই শাড়িগুলোকে আধুনিক ফ্যাশনে ফিরিয়ে আনা জরুরি। কুনবি শাড়ির সাথে ক্রপ টপ, ব্লেজার বা স্নিকার্স পরে তৈরি করা যায় নজরকাড়া ‘ফিউশন লুক’। মুঘল আমলের আভিজাত্য মাখা হিমরু বা গরমের আদর্শ মাদুরাইয়ের সুনগুডি শাড়িকে আপন করে নিলে রক্ষা পাবে তাঁতশিল্প। নিজস্ব সংস্কৃতিকে সঙ্গী করে নতুনভাবে সেজে ওঠার এখনই সঠিক সময়।