ঘাম কি আপনার শরীরের গোপন রোগের সংকেত দিচ্ছে? জেনে নিন বিপদের ৭টি লক্ষণ

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে ঘাম হওয়া একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। আমাদের ত্বকের ঘর্মগ্রন্থিগুলো এই ঘাম উৎপন্ন করে। কপাল, বগল, হাতের তালু এবং পায়ের তলায় এই গ্রন্থিগুলো সবচেয়ে বেশি থাকে। ঘামে শুধু জল নয়, লবণের উপস্থিতিও থাকে। তবে আপনার ঘাম হওয়ার ধরন কিন্তু স্বাস্থ্যের অনেক অজানা তথ্য প্রকাশ করতে পারে।
১. অতিরিক্ত ঘাম বা হাইপারহাইড্রোসিস
বিশ্রাম নিচ্ছেন বা এসি ঘরে আছেন, তবুও কি আপনি প্রচণ্ড ঘামছেন? জামাকাপড় ভিজে যাচ্ছে? এটি হাইপারহাইড্রোসিস হতে পারে। এটি থাইরয়েড সমস্যা, ডায়াবেটিস, মেনোপজ বা লিম্ফোমার মতো ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।
২. হাত, পা বা মুখ থেকে নির্দিষ্টভাবে ঘাম হওয়া
একে ‘প্রাইমারি ফোকাল হাইপারহাইড্রোসিস’ বলা হয়। এটি খুব একটা ক্ষতিকারক না হলেও আপনার স্নায়ুতন্ত্রের অতিরিক্ত সক্রিয়তার পরিচয় দেয়। মূলত উৎকণ্ঠা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে এমনটা ঘটে।
৩. রাতে ঘাম হওয়া (রেড ফ্ল্যাগ)
ঠাণ্ডা ঘরে ঘুমানোর সময়ও যদি আপনি ঘামে ভিজে জেগে ওঠেন, তবে সাবধান! এটি যক্ষ্মা (Tuberculosis), হরমোনের ভারসাম্যহীনতা বা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। এর সাথে ওজন কমে যাওয়া বা ক্লান্তি থাকলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৪. ঘাম না হওয়া বা অ্যানহাইড্রোসিস
রোদে বা ব্যায়াম করার সময়ও যদি আপনার একদম ঘাম না হয়, তবে বুঝতে হবে ঘর্মগ্রন্থিগুলো ঠিকমতো কাজ করছে না। স্নায়ুর সমস্যা বা ডায়াবেটিক নিউরোপ্যাথির কারণে এমন হতে পারে। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়।
৫. অতিরিক্ত লবণাক্ত ঘাম
ঘাম যদি খুব বেশি নোনতা লাগে বা শুকিয়ে যাওয়ার পর ত্বকে সাদা লবণের স্তর পড়ে, তবে বুঝতে হবে আপনার শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যাচ্ছে।
৬. বুক ধড়ফড় করা ও ঘাম
হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঘাম এবং সেই সাথে বুক ধড়ফড় করা হরমোনের সমস্যা বা অ্যাড্রিনাল গ্রন্থিতে টিউমারের সংকেত হতে পারে।
৭. ঘামের গন্ধে পরিবর্তন
ঘামে যদি হঠাৎ অ্যামোনিয়া বা ধাতব গন্ধ পাওয়া যায়, তবে তা কিডনির সমস্যা বা ডায়াবেটিসের লক্ষণ হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ বা ইনফেকশনের কারণেও ঘামের গন্ধ বদলে যায়।