ছোটবেলার অবহেলায় বার্ধক্যে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে আর্থারাইটিস

ছোটবেলার অবহেলায় বার্ধক্যে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে আর্থারাইটিস

শৈশব বা ছোটবেলা কেমন কাটছে, তার ওপর কেবল মানুষের মানসিক বিকাশই নয়, বরং বার্ধক্যের শারীরিক সুস্থতাও অনেকাংশে নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। গবেষকদের দাবি, ছোটবেলায় চরম অবহেলা বা প্রতিকূল পরিবেশের মধ্য দিয়ে বড় হলে পরবর্তী জীবনে রিউমাটয়েড আর্থারাইটিসের মতো জটিল হাড়ের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

বারমিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দীর্ঘ ২৬ বছরের গবেষণায় এই পারস্পরিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। তাঁরা একটি উন্নত সফটওয়্যারের সাহায্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখেছেন যে, শৈশবের মানসিক চাপ ও পারিবারিক অশান্তি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই প্রভাবই মধ্যবয়স বা বার্ধক্যে পৌঁছে হাড় ও চর্মরোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

রিউমাটয়েড আর্থারাইটিস হলো এমন এক ধরনের বাত, যা মানুষের অস্থিসন্ধিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শরীরের স্বাভাবিক চলনক্ষমতা কেড়ে নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে এটি পঙ্গুত্ব পর্যন্ত ডেকে আনে। গবেষকদের মতে, শৈশবে যারা অত্যন্ত অবহেলায় বড় হয়েছেন কিংবা পারিবারিক বিবাদের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা দিচ্ছে।

শুধুমাত্র হাড়ের সমস্যাই নয়, শৈশবের সুপ্ত প্রভাব থেকে পোরিয়াসিসের মতো চর্মরোগও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। আপাতদৃষ্টিতে ছোটবেলার স্মৃতির সাথে বার্ধক্যের রোগের কোনো যোগসূত্র খুঁজে পাওয়া কঠিন মনে হলেও, বিজ্ঞান বলছে শৈশবের মানসিক ক্ষত শরীরের অভ্যন্তরীণ জৈবিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন ঘটায়। যা কয়েক দশক পর শারীরিক অসুস্থতা হিসেবে প্রকাশ পায়।

বর্তমানে ঘরে ঘরে হাড়ের ব্যথার যে সমস্যা দেখা যাচ্ছে, তার মূলে শৈশবের এই অবহেলা থাকা অস্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই গবেষণার ফলাফল সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি শিশুদের সঠিক যত্ন ও সুস্থ পারিবারিক পরিবেশের গুরুত্বকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। শৈশবে সুরক্ষিত ও আনন্দদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আগামী প্রজন্মের বার্ধক্য অনেক বেশি কষ্টমুক্ত হতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *