ডলারের বিপরীতে টাকার ঐতিহাসিক পতন, ১০০ ছোঁয়ার মুখে ভারতীয় মুদ্রা

ডলারের বিপরীতে টাকার ঐতিহাসিক পতন, ১০০ ছোঁয়ার মুখে ভারতীয় মুদ্রা

আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার জেরে রেকর্ড পতন ঘটল ভারতীয় মুদ্রার। প্রথমবারের মতো মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান ৯৩-এর গণ্ডি পেরিয়ে প্রায় ৯৪ ছুঁইছুঁই। শুক্রবার লেনদেন শেষে টাকার দাম ৯৩.৭১-এ স্থির হয়েছে, যা গত চার বছরের মধ্যে এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ পতন। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলারে পৌঁছানোই এই সংকটের মূল কারণ। ভারত তার প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল আমদানি করায় ডলারের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে টাকার ওপর প্রবল চাপ তৈরি করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক উত্তেজনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বাজার থেকে বিপুল পুঁজি সরিয়ে নিচ্ছেন। পাশাপাশি মার্কিন ডলার সূচক শক্তিশালী হওয়া এবং ফেডারেল রিজার্ভের কড়া সুদের নীতি উদীয়মান অর্থনীতির মুদ্রা হিসেবে টাকাকে আরও দুর্বল করে তুলেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে অদূর ভবিষ্যতে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৯৫ থেকে ৯৮ টাকা, এমনকি ১০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টাকার মান ১০০-র মাইলফলক স্পর্শ করলে দেশের সাধারণ মানুষের পকেটে সরাসরি টান পড়বে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে, যা মুদ্রাস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে। আমদানিনির্ভর ইলেকট্রনিক্স, সার ও রাসায়নিক শিল্পের উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি গৃহঋণ ও গাড়ি ঋণের ইএমআই (EMI) বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে এই পরিস্থিতিতে সফটওয়্যার রপ্তানিকারক সংস্থা এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *