তামার পাত্রে জল পান, স্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ?

আজকাল স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে অনেকেই তামার পাত্রে জল পান করছেন। আয়ুর্বেদ ও আধুনিক বিজ্ঞানে এর উপকারিতা থাকলেও, সবার শরীরের জন্য এটি উপযোগী নয়। আয়ুর্বেদ মতে তামার প্রকৃতি ‘উষ্ণ’ ও ‘তীক্ষ্ণ’, যা হজম শক্তি বাড়ালেও শরীরে ‘পিত্ত দোষ’ বৃদ্ধি করতে পারে। ফলে যাদের শরীর গরম প্রকৃতির বা পিত্তের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অভ্যাস হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
বিশেষ করে অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা, ত্বকের র্যাশ বা লিভার ও কিডনির সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য তামার জল এড়িয়ে চলাই মঙ্গল। রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ডায়াবেটিস রোগী এবং সংবেদনশীল পাচনতন্ত্রের কারণে শিশুদের ক্ষেত্রেও এটি ক্ষতিকর হতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত কপার জমলে তা দীর্ঘমেয়াদে লিভার বা কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
সুস্থ থাকতে সঠিক নিয়ম মেনে চলা জরুরি। জল অন্তত ৮ ঘণ্টা তামার পাত্রে রাখা উচিত, তবে তা ১২ ঘণ্টার বেশি হওয়া চলবে না। টানা তিন মাস তামার জল পানের পর অন্তত এক মাস বিরতি দেওয়া প্রয়োজন যাতে শরীরে অতিরিক্ত কপার না জমে। তাই নিজের শারীরিক অবস্থা ও ধাত বুঝে তবেই জলের পাত্র নির্বাচন করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।