পুণ্য অর্জনে বৈশাখ মাসে এই জিনিসগুলি দান করুন ফিরবে ভাগ্যের চাকা

হিন্দু পंचाঙ্গ অনুসারে বছরের দ্বিতীয় মাস বৈশাখের সূচনা হয়েছে। আগামী ১ মে বৈশাখ পূর্ণিমার মাধ্যমে এই পবিত্র মাসের সমাপ্তি ঘটবে। ধর্মীয় শাস্ত্র অনুযায়ী, বৈশাখ মাস অত্যন্ত পুণ্যদায়ী। এই মাসেই ভগবান বিষ্ণু ‘মধু’ নামক রাক্ষসকে বধ করেছিলেন বলে একে ‘মাধব মাস’ও বলা হয়। স্কন্দ পুরাণে বৈশাখ মাসকে শ্রেষ্ঠ মাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাসে স্নান, দান এবং ভগবান বিষ্ণুর মধুসূদন রূপের আরাধনা করলে অশেষ পুণ্য ও ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।
প্রখর গ্রীষ্মের এই সময়ে বৈশাখ মাসে জল দান করাকে সবথেকে বড় পুণ্যকর্ম বলে মনে করা হয়। সূর্য দেবকে তুষ্ট করতে এবং পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ পেতে জলভর্তি মাটির কলসি দান করা অত্যন্ত শুভ। এছাড়া গরমে তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজ, ফুটি বা বেলের মতো রসালো ও শীতল ফল দান করলে সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি বজায় থাকে। এই পবিত্র মাসে তুলসী পূজা এবং ভগবান বিষ্ণুর আরাধনা করলে আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে।
গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে রক্ষা পেতে অভাবী মানুষকে ছাতা এবং চটি দান করার বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, এই দুটি জিনিস দান করলে কুণ্ডলী থেকে রাহু ও কেতুর অশুভ প্রভাব দূর হয়। পাশাপাশি বস্ত্র দান করলে সূর্যদেবের অবস্থান মজবুত হয় এবং জীবনের বাধা কেটে যায়। এই মাসে সতু বা ছাতু খাওয়া এবং দান করা স্বাস্থ্যের পাশাপাশি আধ্যাত্মিক দিক থেকেও অত্যন্ত ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।
বৈশাখের এই পুণ্য তিথিতে ভক্তিভরে নিয়ম পালন করলে এবং আর্ত মানুষের সেবায় এগিয়ে এলে কয়েক গুণ বেশি সুফল পাওয়া যায়। শাস্ত্রীয় মতে, এই সময় দান-ধ্যান করলে কুণ্ডলীর গ্রহদোষ খণ্ডন হওয়ার পাশাপাশি পরিবারে সুখ ও শান্তির পরিবেশ বজায় থাকে। তাই ধর্মীয় বিধি মেনে এই নির্দিষ্ট বস্তুগুলি দান করে আপনার জীবনেও সমৃদ্ধি ও বরকত বয়ে আনতে পারেন।