মদ্যপান না করলেও ঘাতক হতে পারে ফ্যাটি লিভার, জানুন কেন বাড়ছে ঝুঁকি

বর্তমান সময়ে ফ্যাটি লিভার একটি অত্যন্ত পরিচিত স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। আগে ধারণা করা হতো, যারা অত্যধিক মদ্যপান করেন কেবল তারাই এই রোগে আক্রান্ত হন। কিন্তু আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বলছে, যারা কোনোদিন মদ স্পর্শ করেননি, তারাও এখন বড় আকারে ফ্যাটি লিভারের শিকার হচ্ছেন। মদ্যপান ছাড়া লিভারে চর্বি জমার এই বিশেষ অবস্থাকে চিকিৎসকরা ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ (NAFLD) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মূলত লিভারে যখন প্রয়োজনের অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে থাকে, তখন এই সমস্যা তৈরি হয়। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে শহরকেন্দ্রিক জীবনযাত্রায় এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় বসে কাজ করাকে এই রোগের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া রক্তে মেদ বৃদ্ধি বা ওবেসিটি এই ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং হাই কোলেস্টেরলের রোগীদের ক্ষেত্রে এই রোগ প্রাণঘাতী রূপ নিতে পারে। ফ্যাটি লিভারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো স্পষ্ট নয়। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত রোগী বুঝতেও পারেন না যে তার লিভারে চর্বি জমেছে। তবে ক্রমাগত ক্লান্তি অনুভব করা, পেটের ওপরের অংশে ব্যথা, পেট ফুলে যাওয়া কিংবা পায়ে জল জমার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত সাবধান হওয়া প্রয়োজন।
সময়মতো সচেতন হলে জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের মাধ্যমে এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ থাকতে প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করা এবং পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। বিশেষ করে জাঙ্ক ফুড বা অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখলে লিভারকে সুরক্ষিত রাখা যায়। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি যাতে সমস্যা জটিল হওয়ার আগেই ধরা পড়ে।
ফ্যাটি লিভারকে অবহেলা করা হলে তা লিভার সিরোসিস বা লিভার ফেইলিওরের মতো মারাত্মক পরিণতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। নিয়মিত শরীরচর্চা এবং সঠিক ডায়েট মেনে চলা শুধু ওজন কমায় না, বরং লিভারের কার্যক্ষমতাও অটুট রাখে। সুস্থ লিভারই দীর্ঘায়ু হওয়ার চাবিকাঠি, তাই শরীরের ভেতরে জমে থাকা এই নীরব ঘাতক সম্পর্কে জনসচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজন।