মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে অগ্নিমূল্য ড্রাই ফ্রুটস, হু হু করে বাড়ছে বাসমতী চালের রফতানি খরচও

ইরান, ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি ভারতের বাজারে। পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিরতার জেরে আমদানিকৃত পেস্তা, বাদাম ও খেজুরের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ হওয়ায় ইরান ও আফগানিস্তান থেকে শুকনো ফল ভারতে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে পাইকারি ও খুচরো বাজারে ড্রাই ফ্রুটসের দাম প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিল থেকে বিয়ের মরসুম শুরু হতে চলায় চাহিদার চাপে এই দাম আরও ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বাড়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
দিল্লির খারি বাউলি বাজারের ব্যবসায়ীদের মতে, ইরান থেকে আসা মামরা বাদাম, পেস্তা ও ডুমুরের সরবরাহ তলানিতে ঠেকেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বাদাম ১২৪০ টাকা এবং পেস্তা ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অনেক পণ্য মাঝপথে আটকে যাওয়ায় বা বন্দরে পড়ে থাকায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই কোটি কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে, বিশেষ করে উৎসব ও অনুষ্ঠানের কেনাকাটায় খরচ বাড়ছে বহুগুণ।
অন্যদিকে, আমদানির পাশাপাশি ভারতের চাল রফতানিতেও বড় ধাক্কা লেগেছে। বিশ্বের বৃহত্তম চাল রফতানিকারক দেশ হিসেবে ভারত থেকে খারি দেশগুলোতে যে বিপুল পরিমাণ বাসমতী ও সেলা চাল পাঠানো হতো, তা বর্তমানে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ কমে গিয়েছে। বিকল্প পথে পণ্য পাঠাতে গিয়ে রফতানি খরচ প্রায় চার গুণ বেড়ে গিয়েছে। বিমা সংক্রান্ত জটিলতা ও পণ্যবাহী কন্টেইনার আটকে থাকায় ক্ষুদ্র রফতানিকারকরা চরম সংকটে পড়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যে এই মন্দা আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।